বলেছিলে, মৃত্যুকে বিবাহ করো
ঘুম তোমাকে আর খারাপ হতে দেবো না, অস্পষ্ট
নেশার ভিতর দেখা গেল ছায়া, নিকষিত
মন
নিচেষ্ট হয়ে বসে সিঁড়ির উপরে চুপ, এই
সিঁড়ি উচ্চাশার, খাদে
নামতেও পারে. যখন বিদ্যুৎ খসে পড়ে
আকাশ-গঙ্গায়, লাল লাল চোখে, নেশায় আঙুল
ফুলে আছে, অহংকারের
বিষ পুঁতে দিই অধরে, কারণ আমি কল্পনা করেছি এক
পর্ণকুটির, ঈর্ষা ও অপরাহ্নের তৃণ, বলেছিলে—
মৃত্যুকে বিবাহ করো।
কেন আমার প্রণয়ের ভিতর ছিদ্র আছে? ভিক্ষাপাত্রে অল্প
পাপকথা, উদ্ভিদ সংশয়-চিন্তা, নিস্ফল
মৈথুন
শুধু স্নেহ-পতনের শ্বাস, এ সেই শ্মশান তীরবর্তী সমুদ্রতট
বালির উপর দেখা যায় ঝিনুকের
চলার ক্ষণস্থায়ী
দাগ, উৎকণ্ঠা, রাগ, ভালোবাসা, স্মৃতি ও কঙ্কর, লেখা
মুছে যায়, লেখা
তীর্থযাত্রা করে বিষুবরেখা ধরে মিথ্যাকে
কবর দেবে বলে, আর
নক্ষত্রপতনের শব্দে শুধু প্রশংসার অশ্রু ঝরে পড়ে
নিজস্ব অস্বিতায়।
ক্ষত
ঈষৎ পিঙ্গল চক্ষু তারাটির সঙ্গে কি কথা বলতে চাই? সে
তখন ক্লাস টেন, কৈশোরের ঢল নেমেছে শরীরে, যেন মনুয়া নদীটি।
আমি শ্যাম, ধান-দূর্বার মতো সিক্ত তরুণ, কিন্তু
কখনো তো দেখাই হয়নি আমাদের, তাই
কথাও অনুক্ত রয়ে গেছে।
না বলা কথা বাতাসে ভাসে, জলে ডুবে যায়, ছায়ার ভিতরে
মিশে লুকিয়ে পড়ে অসময়ে।
এই নাও লঘু-আয়না, আস্তিনের টিপ পরো, তোমার হাসির
কি হবে? তোমার ওড়নার হাওয়ায় কবিতাও কেঁপে উঠত, অতীতের
ধুলো বাঁচিয়ে হেঁটে যেতে যেতে সেখানে দেখি খুব
মেঘ, চেপে জল আসছে।
এই যে শুনতে পাচ্ছেন, এই না বলে ওঠা কথাটি যেন পুষ্পের
ভিতর দিয়ে অন্তরে প্রবেশ করতেই এক তাঁতিপাড়া
খটখট করে কেবল মাকুর শব্দ হচ্ছে নিসর্গে, একটা ব্যথা অথচ
চন্দনের গন্ধ বুকে চিনচিন করে ওঠে, আর
মাথার উপরে গাছের ডালের মতো শূন্য তাকিয়ে রইলে
আর জীবনেও দেখা না হয়ে ওঠাটা? যেন পথে পড়ে থাকা
টায়ারের দাগের মতো স্পষ্ট, অনুরাগ শুধু
সূর্যাস্তের লাল আলো সেখানে এসে পড়লে ক্ষত বলে মনে হয়।