ক্ষতচিহ্নিত হাড়মাংস অথবা নিছকই আত্মজনের কথা

১৫তম পর্ব

এই নিরন্তর রক্তক্ষরণ

“মানুষের এই ভূমিধস,
প্রিয়তম দেশের এই নিরন্তর রক্তক্ষরণ,
যে রক্ত ঝরে মানুষের হৃদয় থেকে পলে পলে
এবং এই মৃত্যু ঘণ্টায় ঘণ্টায়—চলতে দেওয়া যায় না।
যারা মারা গেছে তাদের নাম সব আমারও নাম...।”
                                        — পাবলো নেরুদা 

১৯৭৪ সালের জানুয়ারি, আমি পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি, দেশবন্ধু নগর হাই স্কুলে, বড় স্কুলে। এক সন্ধ্যায় খেলার মাঠ থেকেই দেখলাম আমাদের গোটা স্কুলবাড়িটা ধোঁয়ায় ভরে গেছে। সায়েন্স ল্যাবরেটারি, টিচার্স কমনরুমের দিক থেকে দাউ দাউ আগুনের লেলিহান শিখা আকাশের দিকে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছিলো। দুমদাম আওয়াজে মাঝে মাঝে বিস্ফোরণের শব্দ আসছে। পাগলাঘণ্টি বাজাতে বাজাতে ফায়ার-ব্রিগেডের গাড়ি স্কুলের ভেতর ঢুকছে। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকাটা ফাঁকা হয়ে গেলো, রাস্তার ধারের জটলা ভেঙে সবাই আড়ালে চলে গেলো। আমরা সবাই ভয়ে যে যার মতো দৌড়ে বাসায় ফিরে এলাম। তখন পুলিশের ভ্যান ও ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির পাগলা ঘণ্টির আওয়াজ ‘এলাকার’ দখল নিয়েছে। পরদিন সকালে স্কুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটির নোটিশ ঝুলে গেলো। ভস্মীভূত স্কুলের ভেতরে গিয়ে দেখি ল্যাবরেটরির দরজা-জানালা পুড়ে কালো ‘অঙ্গার’ হয়ে গেছে। দেওয়াল পর্যন্ত চটে গেছে আগুনের তাপে, ঝামার মতো তামাটে পোড়া ইট বেড়িয়ে এসেছে। মেঝেতে, বারান্দায় আগুনের আঁচে গলে যাওয়া নানা আকারের কাচের পিন্ডের মতো সায়েন্স ইন্সট্রুমেন্টগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একটা তামার গোল কম্পাস কাচ ভেঙে সিঁড়ির শেষ ধাপে পড়ে আছে। আমি সেটি তুলে নিতেই একটা পুলিশ রে রে করে ছুটে এলো, ‘কিচ্ছু ছোঁবে না, যাওও এখান থেকে’। পুলিশের তাড়া খেয়ে চলে আসার সময় পিছু ফিরে দেখি আমাদের অঙ্কের শিক্ষক সুনীল বাবু হাই পাওয়ার চশমা চোখে একটা আধপোড়া চেয়ারে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। সেই রাতে ঘুমের মধ্যেও দেখলাম স্কুলের ল্যাবরেটরিটা পুড়ছে, তার দেওয়ালে কালো অঙ্গার, পোড়া ইট। আমার বটবৃক্ষ ঠাকুমার দেহের সেই অঙ্গারের মতো, চিতা কাঠামোর সেই তপ্ত লোহার মতো। সুনীল মাস্টার হাই পাওয়ার চশমা কানে বেঁধে একটা স্কেল দিয়ে সেই কালো কয়লা ছড়াতে চাইছেন...হতাশ অঙ্ক শিক্ষক দেখছেন চারদিকে পোড়া ইটের দেওয়াল বাড়ছে, উঁচু হয়ে উঠছে।

সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য স্বপ্ন দেখা তারুণ্যের দাপাদাপি আর বর্তমানের ক্ষমতার পেশিশক্তির দমন ও পীড়নের দুঃস্বপ্নকাল, এই দুই বিপ্রতীপ সংঘর্ষ চিহ্নিত সময়ে আমাদের দিনগুলো উলটে পালটে যাচ্ছিলো। একদিন আমার সামনের পৃথিবীটাকে দেখা ও বুঝে ওঠার অনুভূতিকে এলোমেলো করে দিলো কলোনির প্রাচীন বটগাছের শেকড়ের ওপর মুখ থুবড়ে পরে থাকা একটা মৃতদেহ, একটা হত্যার বাস্তব ছবি।  আমাদের স্কুলের সামনের  বিরাট বট গাছটার নিচে ভোর রাতে খুন হলেন আমাদের পাশের গলির ননি চক্রবর্তী। সকালের আলো ফোটার আগেই এই সংবাদটা আমাদের এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এই ঘটনার খবর পেয়েই আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু পড়ার খাতা বই ফেলে দৌড়। ঘটনাস্থল থেকে তখনো পুলিশ সেই মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যায়নি। খুব ছোট একটা জটলা, সেই বট গাছটার থেকে কিছুটা দূরে।  ১০/১২ জনের সেই জটলার সবাই বয়স্ক, আমাদের বাবা কাকাদের বন্ধুবান্ধব। আমাদের দেখেই ছোটকাকার বন্ধু মানব কাকু রে রে করে উঠলেন, ‘পালা পালা, এখানে আসতে হবে না! এসব তোদের দেখার দরকার নেই’। আর না এগিয়ে দূর থেকেই দেখলাম, সেই ঝুড়ি নামানো দীর্ঘ বটগাছটার শেকড়ের কাছে একটা মধ্য বয়স্ক দেহ উপুড় হয়ে পড়ে আছে। পেটের দিক থেকে তার অনেকটা মাংস ও নাড়িভুঁড়ি বাইরে বেড়িয়ে এসেছে। আর চাপ চাপ রক্ত ঘাসের উপর বাহারি ঝরা পাতার মতো ছড়িয়ে আছে। গাছের চারদিকে খাকি পোশাকের পুলিশ,  সি আর পি ঘিরে রেখেছে এলাকাটা। তাদের হাতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র: এল এম জি, এস এল আর। ঘাসের উপর চাপ চাপ রক্ত ও  নাড়িভুঁড়ি দেখে শরীরটা গুলিয়ে উঠলো, মাথাটা ঘুরে গেলো। একটা বমি বমি ভাব ভেতর থেকে গলার কাছে এসে আটকে আছে। যে গতিতে দৌড়ে গিয়েছিলাম, তার থেকে দ্রুত গতিতে বাসায় ফিরে এলাম।

আমাদের এলাকার বেশ কয়েকজন তরুণ ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষে’ সাড়া দিয়ে সমাজটাকে পালটে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। এঁদের একজন কেদার বসু। পুলিশের খাতায় কেদার দা ছিলেন ফেরার। পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে সীমান্তবর্তী রাজগঞ্জের এক গ্রামে গিয়ে পার্টির কাজ করছিলেন, সেখানেই আত্মগোপন করে ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবরে একদিন রাতে গোপনে বাসায় এসেছিলেন।  অন্ধকারে বাড়ির সব আলো নিভিয়ে কেদার দা-এর মা তাঁকে খেতে দিয়েছিলেন। এমন সময় পুলিশ গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে। ভাতের থালা লাথি দিয়ে ছিটকে ফেলে দিয়ে কেদার দা-কে খাওয়ার পিঁড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর  তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আমাদের কলোনির ৬ নম্বর গলিতে থাকতেন ননী চক্রবর্তী, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে ছিলেন। কেদার বসুর গ্রেপ্তারের পিছনে ‘পুলিশ ইনফর্মার’ ননী চক্রবর্তীর হাত ছিল বলে কেদার বসুর নকশালি সহযোদ্ধারা জানতে পেরেছিলেন। অনেক দিন পরে  এক প্রাক্তন নকশালি বিমল সেন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমাকে জোরের সঙ্গে বলেছিলেন যে কেদার দা-এর বাসায় আসার খবর ননী চক্রবর্তীই পুলিশকে দিয়েছিলো, তাই তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন তাঁরা। ঘটনার দিন বাড়ি থেকে ভোররাতে থানায় ডিউটি করতে যাবেন ননী চক্রবর্তী এই খবর আগেই তাঁদের কাছে ছিল। ননী চক্রবর্তী খুন হওয়ার পর পুলিশ আমাদের কলোনির প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সঙ্গী ছিল আধাসামরিক কেন্দ্রীয় বাহিনী,  সি আর পি এফ। যদিও এর আগেই কলোনির অধিকাংশ তরুণ ঘর ছাড়া। সে এক ‘পিশাচ আক্রান্ত দিন-রাত’। চারদিকে গুলি, বোমা, বারুদ, বেয়নেট, রাইফেল, আগুন—মৃত্যু, হত্যা, এনকাউন্টার, মস্তান, শহিদ—এই শব্দগুলোর দখলে চলে গেলো সমাজ, শিক্ষা, বাজার।

সম্প্রতি চারু মজুমদারের শতবর্ষে আয়োজিত আলোচনাচক্রে আমাকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অধ্যাপক অভিজিৎ মজুমদার, চারু মজুমদারের ছেলে। সেদিন অথবা এর আগে, নকশালবাড়ির পঞ্চাশ বছর উদ্‌যাপনের আলোচনার মঞ্চে উঠে পিছু ফিরে তাকাতে গিয়ে আমার কৈশোরকালে চারপাশে ঘটে যাওয়া হত্যাগুলোর, মৃত্যুগুলোর, সত্তর দশক মুক্তির দশক হয়ে উঠবে এমন স্বপ্ন দেখা ও দেখানো, স্বপ্ন ও স্বপ্ন হত্যার মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনুভব করলাম সেই ‘পিশাচ আক্রান্ত দিন’ আমাদের সমাজকে টুঁটি ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়েছিলো বটে কিন্তু আজও সেই অন্ধকার বিদ্যমান, তবে কি চিন্তার দীনতা আক্রান্ত ছিলো গোটা আন্দোলনটাই! চারদিকে বিবেকনাশি অস্ত্রের আস্ফালন ক্রমশ গিলে নিয়েছে প্রজন্ম লালিত স্বপ্নগুলো।  যে অগ্নিপথের উপর দিয়ে আমার কৈশোর, যৌবন হেঁটে এসেছে, আজ ক্রমশ ফিকে হয়ে আসা সেই সময়টা ঘুরে ফিরে আসে, প্রশ্ন করে। খতমের রাজনীতি, মূর্তি ভাঙার নীতি, ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ স্লোগান—এ কি ‘বিপ্লব স্পন্দিত বুকের কাজ নাকি সেই গণ-আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ নিভিয়ে দেওয়ার চতুর শকুনির রাজনীতির পাশা খেলার চাল ছিলো? আন্দোলনের ভেতর থেকেই প্রতি আন্দোলন, প্রতি বিপ্লবের আত্মঘাতী পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিলো? যার ফলে আত্মবিসর্জন দিতে হলো এই বাংলার প্রায় একটা গোটা প্রজন্মকে। প্রায় প্রস্তুতিহীন এই ‘বজ্রনির্ঘোষ’ কি ভারতবর্ষের সামগ্রিক অবস্থার, রাষ্ট্রের ক্ষমতার, বিশ্ব পরিস্থিতির মূল্যায়নেই কোথাও বড়সড় ভুল করে ফেলেছিলো?

আমার আশৈশব লালিত সমাজচেতনা যে স্বপ্ন দেখায় সেই স্বপ্নভূমের আকাশ স্বপ্নভঙ্গের কলঙ্ক খচিত হয়ে গেলো! পিছু ফিরে দেখি পুড়ছে আমার দেশ, আমাদের ঝান্ডা। সাম্য ও সমাজবাদের পথ থেকে কীভাবে ধর্মের অন্ধকূপে গলে গলে পড়ছে আমার দেশ। বিগত অর্ধশতক ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের যাত্রাপথ নিরাশাজনক আত্মঘাতী খণ্ডিকরণের পথে এগিয়েছে। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধের পটভূমিকায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে দ্বিমত প্রকাশ্যে যখন আসে তখনো আমার জন্ম হয়নি। দ্বিমতের ফলশ্রুতিতে পার্টিতে বিভাজন দেখা দিলো তখন আমি হাঁটি হাঁটি পা পা। এর আগে ১৯৫০ সালে সোভিয়েত পার্টির বিংশতিতম সম্মেলনে ক্রুশ্চেভের  ঐতিহাসিক বিবরণীর পর সোভিয়েত পার্টিও ভাঙনের পথে চলে আসায় এর প্রভাব পরে সমগ্র বিশ্বের কমিউনিস্ট আন্দোলনে। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংকটের পটভূমিকায় আমাদের দেশের কমিউনিস্ট পার্টির বক্তব্য জাতীয় পরিস্থিতিতে আরদ্ধ রাখলো। এর দুবছর আগেই, স্বাধীনতা উত্তর সময়েই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে তত্ত্বগত সমস্যার সূত্রপাত—ভারতবর্ষের বুর্জোয়া বিন্যাস সম্পূর্ণ হয়েছে কি হয়নি, আধা-সামন্ত্রতান্ত্রিক বুর্জোয়া ব্যবস্থায় বিন্যাসের অবসান হয়েছে কি হয়নি এই প্রশ্নে। সি পি আই এই সময় বক্তব্য রাখে যে, ভারতের বুর্জোয়াদের প্রগতিশীল ভূমিকার অবসান হয়নি। এই দৃষ্টিতে প্রণোদিত হয়ে তারা কংগ্রেসের সঙ্গে মন্ত্রীসভায় যোগ দেয়। দেশের এই রাজনৈতিক তালমাতাল অবস্থা যখন চলছে তখনও আমি কৈশোরে। আমার দেশের কমিউনিস্ট পার্টির একপক্ষ চীনকে আক্রমণকারী দেশ ভেবে নেয়। সময়, পরিবেশ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে গেলেও বিতর্কের সমাধান নেই আজও। কিছুদিন আগে আমার এক আমেরিকান বন্ধু ট্রেসি মানেট্টি সেই সময়ের রাজনৈতিক আবহের আলোচনা প্রসঙ্গে আমাকে লিখলেন, সেদিন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি আমেরিকার চশমায় চীনকে দেখেছিল। ১৯৭২ সালে নকশালবাড়ি অভ্যুত্থান ঘটে, ঘটনাটি ঐতিহাসিক। এই আন্দোলনের প্রভাবেই কলকাতা ও শহরতলি, রাজ্যের প্রান্তিক জনপদগুলোয় ছোট ছোট সংগঠন সমাজ পাল্টানোর এক কঠিন ও দুর্গম,  আত্মবিসর্জনের পণে নিজেদের মাতিয়ে তোলে। কিন্তু এরপর...!

সময় ঘড়ির চতুর ডাইনি তার খেলা খেলে যাচ্ছে। ক্রিয়নক আমরা স্বপ্ন বুনে যাওয়ার বিভ্রমে নিজেদের হাতে নিজেদেরই শব নিয়ে বসে থাকি। আমরা দেখি নকশালবাড়ীর লৌহ পুরুষেরা কীভাবে একা হতে হতে সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। নিজের কুঁড়েঘরে নিঃসঙ্গ কানু সান্যাল ফাঁসির দড়িতে ঝুলে পড়েন। জঙ্গল সাঁওতাল, খোকন মজুমদারেরা নিঃসঙ্গ জীবনের হতাশায় অতীত আঁকড়ে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে চলে গেলেন। একদিন সমাজ বদলানোর নামে আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাথায় প্রাণঘাতী আঘাত করে ছিলেন সেই পরিমল বোস একদিন বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়। শেষবার যখন মায়ের একমাত্র সন্তান, মেধাবী ছাত্র পরিমল ঘর ছেড়ে সংগঠনের কাজে দূরের গ্রামে চলে গেলন তখন তাঁর বৃদ্ধা মা-কে একটা দীর্ঘ চিঠি লিখে যান, ‘মা, তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করবে না। আমরা সমাজটাকে বদলে দেওয়ার সংগ্রামের সেনানী। কয়েক বছরের মধ্যেই জনতার আন্দোলনে এই অঞ্চলকে মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠবে। তখন আমি ফিরে আসবে, ততদিন কষ্টকরে চলতে হবে তোমাকে। তোমার সন্তান সমাজটাকে মুক্ত করে একদিন ঘরে ফিরবে, তখন আমাদের কারো কোনো দুঃখ থাকবে না।’ বছর দুয়েক পরে মায়ের মৃত্যু হলেও পরিমলের আর ঘরে ফেরা হয়নি! 

চলবে