ধারাবাহিক উপন্যাস।। পর্ব—১

অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা ।। ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগা

হাজার বছরের পুরানো শহরের উপকণ্ঠে একজন দার্শনিক বাস করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী সহজ, এবং ইচ্ছা করলেই প্রতিটি মানুষের পক্ষে সুখের নাগাল পাওয়া সম্ভব। জীবন নিয়ে হতাশ ও অসন্তুষ্ট এক যুবক বিষয়টি পরিপূর্ণরূপে আত্মস্থ করার জন্য এই দার্শনিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়। হতাশাগ্রস্ত যুবকের উদ্‌বিগ্ন দৃষ্টিতে পৃথিবী হলো বিশৃঙ্খল ও সীমাহীন বৈপরিত্যে পরিপূর্ণ এক ভাগাড়; আর সেখানে সুখ খুঁজে পাওয়ার ধারণাটি একেবারেই অবিশ্বাস্য। অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা ইংরেজিতে ‘Courage to be Disliked’ আলফ্রেড অ্যাডলারের মনোবিজ্ঞান তত্ত্বকে কেন্দ্র করে রচিত একটি দার্শনিক সংলাপধর্মী বই। বইটি ৩০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়। ইচিরো কিশিমি ১৯৫৬ সালে জাপানের কিওটোতে জন্মগ্রহণ করেন। অসংখ্য পুরস্কার বিজয়ী পেশাদার লেখক ফুমিটাকি কোগার জন্ম ১৯৭৩ সালে।  

প্রারম্ভিকা

যুবক: আবারও জিজ্ঞাসা করছি—বেঁচে থাকার জন্য এই পৃথিবী যে-কোনো বিচারে একটি সহজ স্থান বলে আপনি বিশ্বাস করেন?
দার্শনিক: অবশ্যই। কেবল এই পৃথিবীটা অবিশ্বাস্য রকম সহজ নয় বরং জীবনটাও।
যুবক: এটি কি আপনার আদর্শিক যুক্তি না কী ব্যাবহারিক তত্ত্ব? বলতে চাচ্ছি যে, আমরা প্রতিনিয়ত যে বিষয় বা চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হই তাও কি অনুরূপ সহজ?
দার্শনিক: নিঃসন্দেহে।
যুবক: ঠিক আছে। এবার তাহলে আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলি। এই তত্ত্বটি নিয়ে আপনার সঙ্গে বাহাস করতে চাই। হয় আমি সন্তুষ্ট চিত্তে ফিরে যাব, না হয় এই তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে আপনাকে পিছু হটতে বাধ্য করব।
দার্শনিক: হাহ-হা!
যুবক: আপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনেছি। লোকে বলে আপনি একজন ‘ব্যতিক্রমী দার্শনিক’। আপনার শিক্ষা ও যুক্তিগুলো সহজে অগ্রাহ্য করা যায় না। আপনি না-কি বলেন ‘মানুষ পরিবর্তন হতে পারে’, ‘পৃথিবী খুবই সহজ’ এবং ‘সকলের পক্ষেই সুখী হওয়া সম্ভব’। হ্যাঁ, এমনটাই শুনেছি; যদিও আমার নিকট তা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণীয় মনে হয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাই কারও ওপর নির্ভর না করে নিজেই এসেছি। আপনার বক্তব্যের মধ্যে যদি কোনো ভুল বা অসংলগ্নতা থাকে, তা শনাক্ত করে সংশোধন করে দেব…কিন্তু, আপনি কি তাতে বিরক্ত হবেন?
দার্শনিক: কখনই না; বরং সাধুবাদ জানাব। আমি তোমার মতো তরুণের মতামত জানতে চাই; এমনকি তোমার প্রগতিশীল চিন্তা থেকে জ্ঞানার্জনের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলেও বিশ্বাস করি।
যুবক: ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে বিতর্কের এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না। প্রথমে আপনার মতামতগুলো আমলে নিয়ে তাতে বিরাজমান সম্ভাব্যতাগুলো অনুপুঙ্খ নিরীক্ষা করব। ‘পৃথিবী সহজ এবং জীবনও সহজ’ এই তত্ত্বের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র সত্যতা থাকে তা কেবল শিশুদের দৃষ্টিকোণ থেকেই সম্ভব। কারণ শিশুদেরই কেবল ‘কর প্রদান কিংবা প্রত্যহ কাজে যাওয়ার’ মতো কোনো প্রকাশ্য দায়বদ্ধতা থাকে না। মা-বাবা এবং সমাজের আশ্রয়ে সুরক্ষিত থেকে নির্ভার দিন কাটানো কেবল তাঁদের পক্ষেই সম্ভব। তাঁরাই পারে কল্পনার রঙিন ইচ্ছায় ভবিষ্যৎ সাজাতে। তাঁদের চোখ বাঁধা, স্বপ্নিল সে জগতে পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতার কোনো স্থান নেই। প্রতিটি মুহূর্তই হাসি, আনন্দ, মমতা আর উচ্ছলতা পরিপূর্ণ; পঙ্কিলতামুক্ত, সরল। কিন্তু শিশুর বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে কঠিন পৃথিবীর প্রকৃত রূপ ধীরে ধীরে তাঁদের সম্মুখে উন্মোচিত হয়। অচিরেই শিশু মুখোমুখি হয় নিষ্ঠুর বাস্তবতার; তাঁর মোহভঙ্গ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং সর্বত্রই অসম্ভবের উপস্থিতি লক্ষ্য করে। করুণ বাস্তবতার কষাঘাতে তাঁর স্বপ্নিল জগৎ ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে।
দার্শনিক: আহ্! দারুণ বলেছ।
যুবক: এখানেই শেষ নয়। বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সেই নিষ্পাপ শিশু সামাজিক সম্পর্কের জটিল আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে ফেরে। কর্মস্থল, পরিবার কিংবা সামাজিক জীবনের সর্বত্রই জীবনের রূঢ়তা ও সমস্যার ডালি তাঁর জন্য অপেক্ষায় থাকে। তাঁর বাড়ন্ত কাঁধ রাজ্যের যত দায়-দায়িত্বের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সে সমাজের বৈষম্য, যুদ্ধ, অসাম্য এবং এমন অনেক বিষয়ের সংস্পর্শে আসে যেগুলো সম্পর্কে ছোটোবেলায় তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না; আর সেগুলো সে উপেক্ষাও করতে পারে না। কিছু কি ভুল বলেছি?
দার্শনিক: খুব ভালো লাগছে। বলে যাও…
যুবক: আচ্ছা, সেই সময়ের কথা ধরুন…যখন ধর্মই ছিল শেষ কথা, অনিষ্ট থেকে মুক্তির সহজ উপায়। মেনে চলা ব্যতীত স্বর্গীয় সেই নির্দেশ নিয়ে চিন্তা করার কোনো অবকাশ ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হলো ধর্মীয় সেই প্রভাব এবং ঈশ্বরে প্রকৃত বিশ্বাস এখন আর নেই [১]। ফলাফল ভয়াবহ। নির্ভর করার মতো কোনো আশ্রয় না থাকায় সকলেই উৎকণ্ঠায় ভরপুর এবং সন্দেহগ্রস্ত। সবাই নিজের জন্য বেঁচে আছে। আজকের সমাজ এমনই। তাই, অনুগ্রহ করে বলুন… এমন বাস্তবতা এবং এই বক্তব্যের আলোকে... আপনি কি এখনও বলবেন যে, পৃথিবী সহজ?
দার্শনিক: আমার বক্তব্যে কোনো পরিবর্তন নেই, আমি অনড়। পৃথিবী সুন্দর, সহজ এবং জীবনও তাই।
যুবক: কিন্তু কীভাবে? দুনিয়া ভর্তি রয়েছে দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের সমাহার। যে-কারও কাছে তা স্পষ্ট!
দার্শনিক: তা এজন্য নয় যে, পৃথিবী জটিল; বরং এজন্য যে, তুমি এই পৃথিবীকে জটিল করে তুলেছ।
যুবক: আমি?
দার্শনিক: আমরা কেউই বাস্তব জগতে বাস করি না, বরং সবসময় নিজেদের তৈরি একটি কল্পিত জগতে অবস্থান করি। তোমার দেখা পৃথিবী আমার পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মজার ব্যাপার হলো- এই নিজস্ব জগৎ অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় না।
যুবক: তা কীভাবে হয়? আপনি ও আমি একই সময়ে একই দেশে বাস করছি এবং আমরা একই সবকিছু দেখছি, উপভোগ করছি, তাই নয় কি?
দার্শনিক: তুমি আমার তুলনায় খুবই তরুণ। কিন্তু তবুও… তুমি কি কখনও নলকূপ থেকে সদ্য তোলা পানি পান করেছ?
যুবক: নলকূপের পানি? উমম্…হ্যাঁ। অনেক দিন আগের কথা। গ্রামে দাদীর বাড়িতে নলকূপ ছিল। গরমের তপ্ত দুপুরে সেই নলকূপ থেকে তোলা প্রাণ জুড়ানো শীতল পানির প্রশান্তি আমার স্মৃতিতে এখনও তরতাজা।
দার্শনিক: নিশ্চয়ই তোমার জানা আছে যে, নলকূপের পানির তাপমাত্রা সারা বছর একই থাকে… এই ধরো ১৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। এটি একটি বাস্তব ও প্রমাণিত সংখ্যা এবং যেই পরিমাপ করুক না কেন, তা মোটামুটিভাবে একই থাকে। মজার ব্যাপার হলো, গ্রীষ্মকালে এই পানি পান করলে তা শীতল এবং শীতকালে পান করলে উষ্ণ মনে হয়। যদিও সেই একই রাসায়নিক গঠনের পানি, তাপমান যন্ত্রে যার উষ্ণতা ১৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ ঠান্ডা ও উষ্ণতার এই অনুভূতি নির্ভর করে কখন তা পান করা হচ্ছে—শীতকালে না গ্রীষ্মে?
যুবক: তাহলে বলছেন, এটি পরিবেশের পরিবর্তনের মাধ্যমে আরোপিত একটি সম্মোহন!
দার্শনিক: না, এটি কোনো জাদুবিদ্যা নয়। দেখ… সেই মুহূর্তে, তোমার নিকট পানির উষ্ণতা বা শীতলতা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এর অর্থ হলো তুমি বাস্তবতার দুনিয়ায় বসবাস করছ এবং একে এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিরাজমান এই জগৎকে জটিল ও রহস্যময় মনে হলেও তুমি যদি নিজেকে পরিবর্তন করে নাও তাহলে পৃথিবীটাকেও অধিকতর সহজ মনে হবে। অর্থাৎ পৃথিবীটা কেমন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো তুমি কীভাবে তাকে গ্রহণ করছ।
যুবক: আমি কেমন তার উপর?
দার্শনিক: একদম ঠিক। যেমন ধরো… কালো চশমার ভিতর দিয়ে দেখলে স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর সবকিছু কালো মনে হবে। যদি তা-ই হয়, তবে পৃথিবী কালো বলে শোকতাপ না করে কালো চশমাটি সরিয়ে ফেললেই হয়। সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বল পৃথিবীর ঝলকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তোমার চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। হতে পারে তুমি চশমাটি আবার পরতে চাইবে… কিন্তু তুমি কি প্রথমবারেই চশমাটি সরিয়ে নিতে পারবে? তুমি কি সরাসরি পৃথিবীর দিকে তাকাতে পার? তোমার কি সেই সাহস আছে?
যুবক: সাহস?
দার্শনিক: হ্যাঁ, সাহসিকতারই ব্যাপার।
যুবক: আচ্ছা… ঠিক আছে। আমি শত-সহস্র প্রতিযুক্তি দেখাতে পারি। কিন্তু আমার মনে হয় সেদিকে পরে যাওয়াই সমীচীন হবে। আরেকবার নিশ্চিত হতে চাই—আপনি বলেছেন ‘মানুষ পরিবর্তন হতে পারে’, ঠিক তো?
দার্শনিক: অবশ্যই মানুষ পরিবর্তন হতে পারে… এমনকি তাঁরা সুখও খুঁজে নিতে পারে।
যুবক: সব্বাই! কোনো ব্যতিক্রম নেই?
দার্শনিক: না, পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো… কোনো ব্যতিক্রম নেই, সবাই।
যুবক: হাহ্…হা! আপনি অনেক বড়ো বড়ো কথা বলছেন। যাহোক বিষয়টি উপভোগ্য হয়ে উঠছে। অবিলম্বে আপনার সঙ্গে বিতর্ক শুরু করতে যাচ্ছি।
দার্শনিক: তোমার সামনেই আছি, পালিয়ে যাচ্ছি না এবং কোনো কিছু লুকাচ্ছিও না। এসো আমরা বিষয়টি নিয়ে ধীরে-সুস্থে আলোচনা করি। তাহলে, তোমার অবস্থান হলো ‘মানুষ পরিবর্তন হতে পারে না’, ঠিক?
যুবক: একেবারেই ঠিক; মানুষ পরিবর্তন হতে পারে না। আসলে আমি নিজেই পরিবর্তন না হতে পারার কারণে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি।
দার্শনিক: একইসঙ্গে তুমি পরিবর্তন হওয়ার প্রত্যাশা করছ।
যুবক: অবশ্যই। যদি পরিবর্তিত হতে পারতাম, যদি জীবনটাকে নতুন করে শুরু করতে পারতাম, তাহলে আপনার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ধন্যবাদ জানাতাম। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন; উলটো আপনাকেই আমার সামনে নতজানু হতে হবে।
দার্শনিক: আমার ছাত্রজীবনের কথা মনে করিয়ে দিলে… তখন আমি ছিলাম রক্ত গরম এক টগবগে তরুণ; সত্যের সন্ধানে মহান, জ্ঞানী দার্শনিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম।
যুবক: হ্যাঁ, আমিও সত্যের অনুসন্ধান করছি; জীবন সম্পর্কিত সত্য।
দার্শনিক: আমি কখনও শিষ্য গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করিনি, এবং কখনও নেইনি। কিন্তু গ্রিক দর্শনের একজন ছাত্র হয়ে অন্য ধরনের দর্শনের সংস্পর্শে এসে ইদানীং তোমার মতো যুক্তিবাদী যুবকের আগমনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছি।
যুবক: অন্য দর্শন? সেটা কী?
দার্শনিক: আমার পড়ার ঘরটি ঐদিকে। তুমি যাও। আমি গরম কফি বানিয়ে নিয়ে আসছি। রাতটি মনে হয় অনেক দীর্ঘ হবে….


টীকা:
[১] এই বাক্য দ্বারা লেখক মূলত ধর্মতাত্ত্বিক নয় বরং সামাজিক অবস্থানকে নির্দেশ করেছেন। শাশ্বত ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমান সময়ে মানুষের ওপর অতীতের মতো একই প্রভাব ধরে রাখতে পারছে না। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন, শিক্ষা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার উত্থানের ফলে মানুষ প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বাইরে গিয়ে জীবনের নতুন অর্থ ও উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করছে বলে এমনটি হতে পারে। সর্বোপরি, একজনের জীবনের গতিপথ নির্ধারণে বাহ্যিক উদ্দীপক বা তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীলতা নয় বরং ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব ও আত্ম-প্রত্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করতেই লেখক এমন ধারণা ব্যবহার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।  

ইচিরো কিশিমি ১৯৫৬ সালে জাপানের কিওটোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং এখনও সেখানেই বসবাস করছেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকাল থেকেই তিনি দার্শনিক হতে চেয়েছেন। ১৯৮৯ সালে প্লেটোনিক দর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ধ্রুপদী পাশ্চাত্য দর্শনের বিশেষজ্ঞ পাঠ নেওয়ার সময় থেকে তিনি অ্যাডলারের মনোবিজ্ঞানের ওপর গবেষণা শুরু করেন, লেখালেখি করেন, বক্তৃতা দেন এবং Japanese Society of Adlerian Psychology-এর একজন সনদপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে মনোবৈজ্ঞানিক ক্লিনিকে তরুণদের পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকেন। তিনি আলফ্রেড অ্যাডলারের নির্বাচিত লেখা Kojin Shinrigaku Kogi (The Science of Living) এবং Hito wa Naze Shinkeisho ni Naru no ka (Problems of Neurosis)-এর জাপানি ভাষার অনুবাদ করেন। অন্যান্য আরও অনেক বইয়ের সঙ্গে তিনি Adorā Shinrigaku Nyūmon (অ্যাডলারের মনোবিজ্ঞানের প্রথম পাঠ-Introduction to Adlerian Psychology)-বইয়েরও লেখক।

ফুমিটাকি কোগা ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অসংখ্য পুরস্কার বিজয়ী ও পেশাদার লেখক। ব্যবসা বিষয়ক ও সাধারণ তথ্য-নির্ভর (business-related and general non-fiction) অসংখ্য বেস্ট-সেলিং গ্রন্থ রচনা করেছেন। বয়স যখন বিশের কোঠার শেষের দিকে তখন তিনি অ্যাডলারের মনোবিজ্ঞানের সংস্পর্শে আসেন এবং প্রচলিত জ্ঞানকে অস্বীকার করা এই মতবাদ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তারপরে ইচিরো কিশিমির সঙ্গে দেখা করার জন্য কোগা বহুবার কিওটোতে যান। তাঁর নিকট থেকে অ্যাডলারের মনোবিজ্ঞানের নির্যাস ছেঁকে নিয়ে আসেন, এবং গ্রিক দর্শনের ধ্রুপদী সংলাপের আদলে লিখিত নোট গ্রহণ করেন, যা এই বইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।