করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
হঠাৎ গলার আওয়াজ শোনা যায়।
—অন্তু, কী করিস?
—জি বাবা পড়ছি।
—রাত বেশি জাগিস না, ঘুমিয়ে পড়িস। শরীর খারাপ করবে শেষে।
২.
হাবিব সাহেব অন্তুর বাবা। সরকারি মেডিকেলে দীর্ঘদিন চাকরি শেষে এখন অবসরে গেছেন কয়েকমাস। এখন টুকটাক প্রাইভেট প্র্যাকটিস আর খবরের কাগজ মুখস্ত করেই দিন কাটে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে খুবই চিন্তিত। যদিও খুব হাতের জশ ভালো বলে এলাকায় সুখ্যাতি আছে, তবুও খুব একটা রোগীর ভিড়ভাট্টা নেই। উনি অন্তুকে নিয়ে খুব চিন্তিত। ডানপিটে ছেলে, পড়াশোনায় মন নেই। মাঝেমধ্যে অন্তুর সঙ্গে বসেন। মন দিয়ে ছেলের কথা শোনেন। ছেলের প্যারানরমাল অ্যাকটিভিটিগুলো হাসিতে উড়িয়ে দেন, বলে, এইচএসসিটা ভালো করে দিতে।
৩.
১১টা ৪০ মিনিট। অন্তু অপেক্ষায়। বাকিরা কই? আসছে না কেন? একে একে এলো রজার, প্রান্ত। কিছু পরেই এলো লিমন আর রুদ্র। সবাই টং দোকানে বসে চা আর সিগারেট সাবাড় করছে আর রিয়াদের অপেক্ষা করছে। সবার পরে এলরিয়াদ। এসেই নাটকীয় ভঙ্গিমায় বলল—দোস্ত রাস্তায় খুব জ্যাম। ক্যামনে যে আসছি এই পথ তোরা বুঝবি না। বাকিদের এই নাটকটুকু মুখস্ত। সবাই রিয়াদের কথা শুনে হাসিতে লুটোপুটি খেলো। প্রান্ত জিজ্ঞেস করল—রিয়াদ তুই কবে একটু সিনসিয়ার হবি? রিয়াদের উত্তর দেয়ার আগেই রজার বলে বসল—ওর ঘড়ি চাইনিজ সময়ে চলে। তাই মাঝে মধ্যে উল্টা-পাল্টা সময় দেখায়। কথা শুনে রিয়াদের ব্যাখ্যা আরও বাড়ে, বাকিদের মুখে অট্টহাসি।
অন্তু বলে, মিশন কে, শুরু করা যাক। এই মিশন কে শব্দটি ওরা শৈশবের এক্স ফাইল টিভি সিরিয়াল থেকে নিয়েছে। ওরা নানা জায়গার আগে একটা কোড দেয়। এর আগেরটা ছিল মিশন এক্স, এবারেরটা কে। টং দোকানের বিল পরিশোধ করে উঠে দাঁড়াল সবাই।
৪.
অন্তুর শরীরটা এখন একটু ভারভার লাগছে। যদিও এখন পিছিয়ে আসার কোনো মানে নেই। শো মাস্ট গো অন নীতিতেই ৬ বন্ধু দুই রিকশায় গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। অন্তু, লিমন আর রুদ্র এক রিকশায়। পেছনের রিকশায় রজার, প্রান্ত আর রিয়াদ। সুনসান খালি রাস্তা। রিকশাওয়ালার চেহারাটাও কেমন যেন লাগছে অন্তুর। মনে হচ্ছে আজকেই সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারবে। বুক ভারী হচ্ছে, যদিও সে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে বন্ধুদের সঙ্গে গান, আড্ডা জমিয়ে দিল। গন্তব্য কাছে আসছে। অন্তু দেখছে সামনের মোড়ে কে যেন দাঁড়িয়ে ওখানটায়। দেখতে হাবিব সাহেবের মতো। অন্তু আবার দেখছে বাবা? সে লিমনকে বলল—দেখ তো এটা কে? বাবার মতো না দেখতে। লিমন বলল—কই? মোড়ের টার্নিংয়েই উলটে গেল রিকশা। ছিটকে গেল লিমন,রুদ্র,আর অন্তু। পরের রিকশা থেকে নামল রজার,রিয়াদ। প্রান্ত দৌড় দিল প্রাণঘাতী ট্রাকের পেছনে। কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরেও এল। অন্তুকে নিয়ে গেল হাসপাতালে।
৫.
ভোরের দিকে সবাই অন্তুর বাসায় এল। হাবিব সাহেবের চোখ শুকনো,আঘাতে নিস্তব্ধ হয়ে আছেন। হকার এসে পত্রিকা দিয়ে গেল। প্রথম পাতার নিচের দিকে লেখা, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ১, আহত ২। লিমন আর রুদ্র খবরটির দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকে। তারা তো কিছুই দেখেনি? তবে কি অন্তুই দেখেছিল? নাকি বিভ্রম? তারাও বুঝতে পারেনি কিছুই।