ঈদ সংখ্যা ২০২৬

প্রেম

প্রথম তাকানোর মুহূর্তে মনে হয়েছিল শরীরের ভেতরে কোনো অদৃশ্য কণা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিউরনের অন্ধকারে হঠাৎ আলো জ্বলে ওঠে, রক্তের ভেতর রাসায়নিক সংকেত ছুটে যায়—যেন দুটি একাকী পরমাণু ধীরে-ধীরে একে অপরের কক্ষপথে ঢুকে পড়ছে।

কাছে এলে শরীর আর শরীর থাকে না; যেন নীরব ল্যাবরেটরি, যেখানে স্পর্শ মানে বিদ্যুৎ, শ্বাস মানে উষ্ণ কোনো জৈব প্রতিক্রিয়া। প্রেম আর কামনা তখন মিলেমিশে একাকার—একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, যেমন দূরের নক্ষত্রের ভেতরে আগুন ও আলো একই সঙ্গে জন্ম নেয়।

একসময় মহাবিশ্বের মতোই সমীকরণ বদলে যায়। দুজন দূরে সরে যাই—দুটি গ্রহের মতো, একদিন যারা একই মহাকর্ষে বাঁধা ছিল।

মাঝে মাঝে মনে হয় প্রেম আসলে কোনো স্থির বস্তু নয়, এটি শক্তি। শরীর থেকে শরীরে, সময় থেকে স্মৃতিতে, রূপ বদলে-বদলে সে বেঁচে থাকে—অন্ধকারের ভেতর দূরের নক্ষত্রের মতো, যার আলো অনেক দেরিতে এসে পৌঁছে।