উসমান সেম্বেনের মুখোমুখি রেজিনাল্ড উলারি ও জন সিঙ্গলটন

রেজিনাল্ড উলারি: আপনি ‘ক্যাম্প দে থিয়ারয়ে’ (১৯৮৮) চলচ্চিত্রটি শেষ করেছেন ফরাসিদের দ্বারা সমস্ত সৈন্যদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। অন্যদিকে, আপনার নতুন চলচ্চিত্র ‘গুয়েলওয়ার’ (১৯৯২)-এর প্রেক্ষাপট উল্টো, কৌতুকে ভরা। এটি যেন আরও বেশি আন্ত-আফ্রিকান সম্পর্ক নিয়ে, আফ্রিকানদের জন্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে। আপনি কীভাবে ওখান থেকে এখানে এলেন?

উসমান সেম্বেন: থিয়ারয়ে’রও দশ বছর আগে ‘সেডো’ (১৯৭৭) থেকে আমার মূল পরিকল্পনা ছিল যে আফ্রিকার সমাধান কেবল আফ্রিকা থেকেই আসতে পারে। সেই অর্থে আমি প্রকৃতপক্ষে কিছুই পরিবর্তন করিনি। যারা আমার চলচ্চিত্র দেখতে আসে তারা এখনও একই কারণে তা করে।

রেজিনাল্ড উলারি: আমি আপনার উপন্যাস ‘গডস বিটস অফ উড’ এবং ‘দ্য ডকার’ পড়েছি, এবং আমি চরিত্রগুলোর জটিলতায় সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। আপনি পর্দায় এই একই মাত্রা বজায় রাখেন, যদিও বিস্তারিত নাও থাকতে পারে। আপনি কীভাবে আপনার চলচ্চিত্র এবং গল্পগুলো তৈরি করেন?

উসমান সেম্বেন: আমি নিজেই একটি জীবন্ত স্ববিরোধী মানুষ।

রেজিনাল্ড উলারি: আমি তা জানি।

উসমান সেম্বেন: আমি বিরোধাভাসে পূর্ণ। মানথিয়া আমাকে সবসময় এটা জিজ্ঞাসা করে, এবং আমি জানি না কীভাবে এর উত্তর দিতে হয়। একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার কোনো গোপন বিষয় নেই, কিন্তু আমি কিছু ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করি না। আমি একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যক্তির চলাফেরা বোঝার জন্য মার্কসীয় দ্বান্দ্বিকতা ব্যবহার করি। মার্কসীয় দ্বান্দিকতা গতিশীলতা এই জটিলতা তৈরি করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের খাওয়ার প্রয়োজন, কিন্তু সে কি নিজে উৎপাদন করেছে, যা সে খাচ্ছে নাকি অন্য কেউ? এগুলো এমন প্রশ্ন যা আমার লেখার সময় উঠে আসে। বাম্বারায় একটি প্রবাদ আছে, “যদি আপনি পুরো এক বছর আপনার টাকার থলি না ছুঁয়ে খেতে পারেন, তার মানে আপনি অন্য কারও পকেটে বাস করছেন।” তাই যখন আপনি এমন একজন মানুষের সংস্পর্শে আসেন, তখন আপনাকে তার সম্পূর্ণ মানসিকতা এবং তাকে ঘিরে থাকা সমাজকেও বর্ণনা করতে হবে, তার চিন্তাধারা বুঝতে। এভাবেই আমি এগিয়ে যাই।

রেজিনাল্ড উলারি: যখন মানথিয়া এবং নগুগি ডাকারে আপনাকে চিত্রধারণ করছিলেন, একদল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সাথে আপনার একটি আলোচনা হয়েছিল। তাদের প্রশ্নগুলো দেখে সবাই খুব মুগ্ধ হয়েছিল, তা প্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্নাতকোত্তর ছাত্রদের স্তরের ছিল। তারা আপনাকে আপনার প্রতীকী ব্যবহার এবং কীভাবে আপনি সেখানে ভূমিকা রাখেন সে বিষয়ে সত্যিই চ্যালেঞ্জ করেছিল। এই তরুণ সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক কীভাবে সৃজনশীল প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে?

উসমান সেম্বেন: আমার মানুষদের সাথে দেখা করা আমাকে সমৃদ্ধ করে। এটা আমাকে সাহস দেয়। এটা আমাকে নিজেকে সংশোধন করতে এবং প্রশ্ন করতে সাহায্য করে। এটা আমাকে নিজেকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে। আমি ৭০ বছর বয়সি হয়ে ২০ বছর বয়সি বাচ্চাদের সাথে কথা বলছি। আমি কীভাবে মানসিকভাবে এসব তরুণের সাথে কাজ করতে পারি? তাদের হাতেই সংস্কৃতির নাড়ি রয়েছে।

রেজিনাল্ড উলারি: আপনি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করার আগে উপন্যাস লেখক ছিলেন। আপনি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেছিলেন, কারণ একটি মহাদেশে যেখানে বেশিরভাগ মানুষ পড়তো না, সেখানে চলচ্চিত্র অধিক সহজলভ্য ছিল। ১৯৬৫ সালে যখন আপনি আপনার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ব্ল্যাক গার্ল’ নির্মাণ করেন, তখন আপনাকে আপনার চলচ্চিত্রগুলো ইউরোপে প্রদর্শন করতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আফ্রিকান দেশগুলোতে আফ্রিকান চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে হয়েছিল।

উসমান সেম্বেন: এটা কেবল আমি একা নই! আফ্রিকান চলচ্চিত্র একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সত্যি বলতে, আমরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করার জন্য খুবই দুর্বল। আপনার বয়স যাই হোক না কেন, বা আপনি যতদিন ধরেই চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে জড়িত থাকেন না কেন, যখনই আপনি কারও সাথে আলাপ করেন, আপনি তার কাছ থেকে শিখতে পারেন। আপনি যখন অন্যদের সাথে আপনার অনুভূতি ভাগ করে নেন, এটি একটি ঐক্যের অনুভূতি সৃষ্টি করে। এটাই মূল বিষয়।

রেজিনাল্ড উলারি: যদিও আফ্রিকান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আপনি এখানে চলচ্চিত্রের দিকনির্দেশনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

উসমান সেম্বেন: এটা স্বাভাবিক। প্রতিটি পালে একজন নির্বোধ থাকে (হাসি)। যখন আপনি মারা যান, কেউ না কেউ আপনার জায়গা নেয়। এটাই জীবন। কাউকে না কাউকে সবসময় অন্যদের জন্য প্রবণতা নির্ধারণ করতে হয়। কেন সারা বিশ্বে সমাজ শিল্পীদের থাকার প্রয়োজন অনুভব করে এবং তাদের স্বীকৃতি দেয়?

রেজিনাল্ড উলারি: আপনার চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের অনেক কিছু দিয়েছে, আফ্রিকার ওপর আলোকপাত করা এবং প্যান আফ্রিকান বিষয়গুলোকে চলচ্চিত্র মাধ্যমে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে। চলচ্চিত্র নির্মাণ কীভাবে বিশ্বের প্রতি আপনার অভিজ্ঞতাকে মধ্যস্থতা করেছে?

উসমান সেম্বেন: আপনি জীবন কিনতে পারেন না। কিংবা পরিবর্তন করতে পারেন না। আমার জ্ঞান পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলো থেকে উদ্ভূত। আমার সম্প্রদায় ও সমাজ ছাড়া আমি কিছুই নই। আমি আমার সম্প্রদায়ের কাছে দায়বদ্ধ। আমি আমার কাজের জন্য কোনো পুরস্কার বা প্রতিদান আশা করি না। সম্প্রদায় আমার কাছে কিছু ঋণী নয়।

রেজিনাল্ড উলারি: আমার মনে হয়েছিল যে ‘ক্যাম্প দে থিয়ারয়’ আফ্রিকান এবং আফ্রিকান আমেরিকান উভয়কেই আকর্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে একটি আটক শিবিরে ঘটা এই চলচ্চিত্রটি অনেক দৃশ্যের পটভূমিতে ‘ব্লুজ’ ব্যবহার করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসিদের সঙ্গে যুদ্ধ করা আফ্রিকান সৈন্যদের আফ্রিকান আমেরিকান সৈন্যদের কাছ থেকে পোশাক ধার করতে হয়, যা পরবর্তীতে একটি মানসিক দ্বন্দ্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এমনকি আপনি একজন আফ্রিকান আমেরিকান সার্জেন্ট চরিত্রও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যে দুর্ভাগ্যক্রমে একজন প্রকৃত বদমাশ, যতক্ষণ না সে বুঝতে পারে যে সে যাকে মারধর করেছে সে তারই একজন আফ্রিকান ভাই। এই চলচ্চিত্রে, আপনি কি আমেরিকানদের উদ্দেশে সরাসরি কিছু বলতে চেয়েছিলেন, নাকি কেবল প্রবাসী আফ্রিকানদের উদ্দেশে?

উসমান সেম্বেন: এটি ছিল আফ্রিকান এবং আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে প্রথম যোগাযোগগুলোর একটি। আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আপনি সেই প্রথম যোগাযোগের কল্পনাও করতে পারবেন না। আপনার কোনো ধারণা নেই। আমরা উভয়েই একটি ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনীতে ছিলাম। সেটা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন। আমি আশা করি আমেরিকান সার্জেন্ট নিজেকে আমেরিকান ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্ত করেছে। আপনি, একজন আফ্রিকান আমেরিকান হিসেবে, আমেরিকান ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্ত, যদিও আপনি এর কেন্দ্রস্থলে বাস করছেন। আমি নিজেকে ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্ত করেছি, কিন্তু এখন নব্য-ঔপনিবেশিকতা রয়েছে। এখন আমাদের যোগাযোগ ভিন্ন। এভাবেই জিনিসগুলো চলে।

রেজিনাল্ড উলারি: আরেকটু ব্যাখ্যা করবেন?

উসমান সেম্বেন: ইউরোপ এবং বিশেষ করে ফ্রান্সের একটি নব্য-ঔপনিবেশিকতার লক্ষ্য রয়েছে, তা সমাজতান্ত্রিক সরকার হোক বা ডানপন্থি সরকার। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মিত্তেরাঁ বলেছেন, ফ্রাঙ্কোফোন আফ্রিকা ছাড়া, ফ্রান্সের একুশ শতকে কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থাকবে না। আমার কাছে, কিছুই পরিবর্তিত হয়নি। ১৯৮৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত, আফ্রিকায় সব কিছু একই রকম রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, শ্বেতাঙ্গরা আমাদের তিনবার মিথ্যা বলেছে। ভারত ও লাতিন আমেরিকা শূন্য করার পর, তারা আমাদের দিকে ফিরেছিল, আমাদের সভ্য করতে, আমাদের খ্রিষ্টধর্মে আনতে। এটা ৩০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ১৮০০-এর দশকে তারা আবার ফিরে এসেছিল আমাদের শান্ত করতে, আমাদের আধুনিকতা আনতে। ১৯৬০ সালে, তারা চলে গেল এবং বেশ বিশৃঙ্খলা ছিল। ১৯৯৩ সালে, তারা বলছে তারা আমাদের ‘গণতন্ত্র ও সভ্যতা’ আনছে। তিনবার তারা আমাদের মিথ্যা বলেছে এবং আমাদের উপনিবেশ করার চেষ্টা করেছে। যে আফ্রিকান তা মনে রাখে না, সে পরবর্তী শতাব্দীতেও নিপীড়িত থাকবে। দাসত্বের সময়, জাতি মরেনি। আমরা আমাদের সংস্কৃতির যা অবশিষ্ট ছিল তা শক্তিশালী করেছি। আমেরিকান প্রবাসে, টিকে থাকার জন্য, তারা দুটি সুন্দর জিনিস আবিষ্কার করেছিল, যা তাদের অন্তর থেকে পুষ্ট করেছিল। জ্যাজ এবং ব্লুজ। এটা একটি সাংস্কৃতিক প্রকাশ। এটা এখনও একটি সভ্যতা নয়। এটা সম্প্রদায় থেকে এসেছে, কিন্তু এখন জাপানি জ্যাজ, ইউরোপীয় জ্যাজ রয়েছে। আমরা এটা মানবতার কাছে নিয়ে এসেছি। এখন তাদের ক্লাসিক্যাল জ্যাজও আছে। মাইলস ডেভিস, লুই আর্মস্ট্রং, চার্লি পার্কার, অন্য লোকেরা তাদের আত্মসাৎ করেছে। পিকাসোর পর থেকে, আমরা সমস্ত সংস্কৃতিকে পরিবর্তিত করেছি। আমাদের নারীদের দেখুন, তারা যত কষ্টই হোক না কেন সন্তান প্রসব করে। এখন আফ্রিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। এখন, এমনকি পোপও ভুডু পুরোহিতকে দেখতে যান। অতীতে, পোপকে দেখতে হলে রোমে যেতে হতো। এখন পোপই আফ্রিকায় আসেন। ইসলামও একই কাজ করে। আমাদের এখনও সংগ্রাম করতে হবে, কিন্তু আমরা এখন বিশ্বের কেন্দ্রে। কল্পনা করুন, একদিন উত্তরে ডাকার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি টাউন পর্যন্ত একটি রেলপথ। এবং সুয়েজ খাল থেকে কোনাক্রি পর্যন্ত একটি সড়ক। এটা সম্ভব, কিন্তু আমরা এখনও তা করিনি। এই সংস্কৃতি আমাদের, কিন্তু তারা আমাদের বলার চেষ্টা করে যে তারাই সূত্র, সব কিছুর উৎস। ইউরোপের আমাদের শেখানোর কিছু নেই। ইউরোপ একেবারেই কিছু জানে না। তারা মনে করে যে আমাদের হত্যা করে তারা আমাদের সংস্কৃতি হত্যা করবে। তারা আমাদের হত্যা করার চেষ্টা করবে, কিন্তু আমাদেরও তাদের হত্যা করতে লজ্জা পাওয়া উচিত নয়, কোনো ছাড় ছাড়াই।

জন সিঙ্গলটন: আমি মনে করি আপনার বয়সের প্রজ্ঞা থেকে শিখতে পারি। অনেক কিছু আছে যা আপনি অভিজ্ঞতা করেছেন, যা আমি জানি, কিন্তু যা আমাদের পৃথক করেছে, তা হলো আপনার সেগুলোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আমি শুধু সেগুলো সম্পর্কে শুনেছি।

উসমান সেম্বেন: এটা শুধু কয়েকটি বিবরণ। আসলে কিছুই আমাদের পৃথক করে না। এটা আপনার উত্তরাধিকার।

জন সিঙ্গলটন: আমি মনে করি আমি কিছু হতাশাজনক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, যখন থেকে আমি এখানে আফ্রিকায় এসেছি। আমি এর মানুষ এবং এই ভূমির প্রেমে পড়েছি। যত বেশি প্রেমে পড়ি, তত বেশি বিষণ্ন হয়ে পড়ি। এটা হয়তো নিজের এবং আমি যাকে বাড়ি বলি তার প্রশ্ন। এমনকি দক্ষিণ-মধ্য লস অ্যাঞ্জেলসে বেড়ে ওঠার সময়ও আমি পৃথিবীতে আমার স্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছি। এখন, যখন আমি বুর্কিনা ফাসো দেখেছি, আমি এটা আরও বেশি প্রশ্ন করি। আমি আরও বেশি গৃহহীন বোধ করি। তাই, আমি যা করার পরিকল্পনা করছি তা হলো এখানে আরও বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করা, হয়তো বছরে দুই বা তিন মাস।

উসমান সেম্বেন: আপনি যখন আসতে চান, আমার বাড়ি আপনার জন্য খোলা।

জন সিঙ্গলটন: আমি আমেরিকাকে সেই জায়গা হিসেবে ভাবতে শুরু করতে চাই, যেখানে আমি কাজ করি, কিন্তু আমি সবসময় আফ্রিকাকে আমার বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করতে চাই।

উসমান সেম্বেন: এটাই শিল্পীর জীবনযাত্রার পদ্ধতি। শিল্পী সবসময় নিজেকে কঠিন প্রশ্ন করে। আপনার এই অনুভূতি অভিবাসী সমস্ত মানুষের একই অনুভূতি। আমি এটা বুঝি, কিন্তু আমি মনে করি আপনি সমৃদ্ধ। আপনি যে আফ্রিকান সংস্কৃতি আবিষ্কার করেছেন এবং আমেরিকান সংস্কৃতিও রয়েছে। আমাদের একটি সংশ্লেষণে আসতে হবে। অতীতের আফ্রিকা আর কখনও ফিরে আসবে না। আপনার মতো তরুণরাই নতুন আফ্রিকা গড়ে তুলবে।

জন সিঙ্গলটন: আমি নতুন আফ্রিকা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে চাই।

উসমান সেম্বেন: এটি আপনার অধিকার নয়, আপনার কর্তব্য। আপনি সমগ্র সম্প্রদায়ের প্রকাশ। যারা কথা বলতে পারে না তাদের জন্য আপনি মুখ। যারা দেখতে পারে না তাদের জন্য আপনি চোখ। যারা শুনতে পারে না তাদের জন্য আপনি কান। এবং যারা হাঁটতে পারে না তাদের জন্য আপনি পা। আপনি এবং আমি, আমরা আমাদের সম্প্রদায় ছাড়া কিছুই নই। কোনো শিল্পী সম্প্রদায় ছাড়া কেউ নয়। কেউ আমাদের এটি করার নির্দেশ দেয়নি, কিন্তু আমাদের করতেই হবে। আপনার জায়গায় অন্য কেউ এটি করবে না।

জন সিঙ্গলটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেকে আছেন যারা আমার বিশ্বাস এবং আমার কাজের পদ্ধতিকে অদ্ভুত মনে করেন। কিন্তু, আমি সর্বদা এই বিশ্বাস পোষণ করেছি যে তারা তাদের মনে দাস। এই কারণেই আমি সর্বদা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি।

উসমান সেম্বেন: এটি একটি নব-ঔপনিবেশিকতা। কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকা একটি উপনিবেশ।

জন সিঙ্গলটন: এটি শৃঙ্খলের বিষয় নয় (মাথার দিকে ইঙ্গিত করে)।

উসমান সেম্বেন: দেখুন! তারা আমাদের মাথায় ঔপনিবেশিকতা ঢুকাতে চায়। তারা চায় আমরা শুধু শ্বেতাঙ্গ মানুষের দিকে তাকাই এবং সেটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ও হওয়া উচিত নয়, যে মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু। মানবতার সমস্ত দুর্ভোগ তাদের থেকেই এসেছে। তারা পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার জন্য কিছুই আবিষ্কার করেনি। তারা যা কিছু করে তা পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য।