ঈদ সংখ্যা ২০২৬

একগুচ্ছ ছড়া

রক্তমাখা বৃত্ত

মায়ের গায়ের গন্ধ বেশ
লাগে আমার ভালো
মায়ের শরীর বাংলাদেশ
লাল-সবুজ আলো।

লাল সবুজের পতাকায়
রক্তমাখা বৃত্ত
বীর বাঙালির দেশটায়
মরছে শিশু নিত্য।

আমার মায়ের কানের দুল
দোলায় মনের ইচ্ছা
আমি হব আকাশি-কলমি ফুল
ফুল-পরির কিচ্ছা।


আমরা খেলি, মাউস-মেগা

আমার দাদুর, ইচ্ছে হলে
ঘুরতে যেত জঙ্গলে;
আমরা এখন, উড়ে বেড়াই
চাঁদের পাহাড় মঙ্গলে।

আমার দাদুর, খেলনা ছিল
একটা কাঠের ঘোড়া;
আমরা খেলি, মাউস-মেগা
ডিভাইস দিয়ে জোড়া।

আমার দাদুর, দস্যি বিকেল,
খেলতো সবাই মাঠে;
আমার বিকেল, মনিটরের
গেম-রেসিং-এ কাটে।

আমার দাদুর, ছোট্টবেলা
কাটতো খেলাচ্ছলে;
আমার বেলা, ডিজিটালে--
বন্দি জীবন চলে।


মডেলিং-এর পোকা

শপিং গাড়ি, চড়তে পারি
উঠতে পারি ভোরে;
পাখির মতো, হাজার-শত
ডাকতে পারি জোড়ে।

হাঁটতে পারি, নাচতে পারি
জাপান ঘুরে আসতে পারি।

ভাবছো আমি বোকা?

ট্রলির উপার, দেখতে সুপার
একটা ফুলের খোকা;
হাসব আমি, সাজব আমি
মডেলিং-এর পোকা।


বৈশাখি ঝড় যখন আসে

বৈশাখি ঝড় যখন আসে
ডাকাত তাড়া করে
দমকা বাতাস ছুটলে পরে
আসতো সবাই ঘরে।
ঘরের চালা উড়িয়ে নিত
বাইরে খেলার মাঠে
আমরা তখন খেলতে যেতাম
বাড়ির পুকুর ঘাটে।
রুই কাতলা মাছের পোনা
খেলতে আসতো ওরা
সাঁতার দিয়ে পুকুর জলে
ভাসতো অনেক ঢোঁড়া।
ঢোঁড়া সাপের ফণা দেখে
পালিয়ে যেত মাছ
ঝড়ের দিনে পুকুর পাড়ে
ভাঙতো হিজল গাছ।
হিজল গাছে বোলতা ছিল
উড়তো শ’য়ে শ’য়ে
বাজ পড়লে মায়ের বুকে
লুকিয়ে থাকি ভয়ে।


মেঘগুলো আকাশের মেয়ে

আকাশের মেঘ নাকি
কালো কালো হুলো
আষাঢ়ের মেয়ে নাকি
সেই মেঘগুলো।

মেঘগুলো শীতল আবেশ
বৃষ্টি ঝিরিঝিরি
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি নাকি
বৃষ্টি পিড়িপিড়ি।

টিনের চালে নৃত্য করে
সেই বৃষ্টি ফোঁটা
টুপ্ টুপ্ টুপ্ টাপ বৃষ্টি ভেজা
শহর দালানকোঠা।