শিক্ষকের বিচার চেয়ে অনশনে বসেছিলেন জবি শিক্ষার্থী

received_572316663252942জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) শিক্ষক বিচার চেয়ে আমরণ অনশনে বসেন নাট্যকলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী। নাট্যকলা বিভাগের ৯ম ব্যাচের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সুব্রত ঘোষ একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামস্ শাহরিয়ার কবি'র বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে অনশনে বসেন।

পরে দুপুর দেড়টায় সুব্রতর সকল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর বিভাষ কুমার ও নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. কামালউদ্দিন কবির অনশন ভাঙ্গান এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

অনশনকারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিভাগের শিক্ষক শামস শাহরিয়ার কবি তার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ক্লাসে তাকে এড়িয়ে চলা, ব্যবহারিক ক্লাসে তাকে কোন নির্দেশনা না দেওয়া, বৈষম্যমূলক আচরণ চালিয়ে যাওয়া, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর কম দেয়া, মানসিকভাবে তাকে হেনস্তা করা।

সুব্রত ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরেই প্রথম সেমিস্টারেই আমার শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন এই শিক্ষক। অনশনরত অবস্থায় শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে দেয়ার কথাটি একটি প্ল্যাকার্ডে লিখে প্রচার করেন সুব্রত। তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর মৌখিক অভিযোগ দিলে আশ্বাস দিয়েই বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে শামস শাহরিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমি তার সঙ্গে কখনো অশিক্ষকসূলভ আচরণ করিনি। আমি বলেছি, বিভাগের মোট ২০ জন ছাত্রের মধ্যে ১ জন যে সুবিধা পাবে বাকী ১৯ জনও সমান সুবিধা পেতে হবে। আমাদের একটি ল্যাব সে ব্যবহার করেছে। তাহলে বাকী ১৯ জন কি অপরাধ করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যেহেতু নিয়ম অমান্য করেছো তাই তোমাকে আমি কোন নির্দেশনা দিতে পারবো না। তার পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। কিন্তু অনশন করার মতো কোনো ঘটনা আমি দেখছি না। বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যান জানতেন বলেও দাবি করেন শিক্ষক শামস্ শাহরিয়ার কবি।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. মো. কামালউদ্দিন কবির বলেন, আমি এ ঘটনাটি সম্পর্কে আজকেই জেনেছি। এ ঘটনায় আমি বিব্রত। যেকোনও সমস্যা প্রথমে বিভাগীয় চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। চেয়ারম্যান সমাধান না করলে তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। অনশনে চলে যাওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি। ইতোমধ্যে সেই শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করেছে বলে শুনেছি। সে সেটি জমা দিলে বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।