শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জাবিতে নেই বিশেষ কোনও আয়োজন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি এ বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেরও সুবর্ণজয়ন্তী। বুদ্ধিজীবীদের শহীদ হওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীতে তাদের স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেই কোনও বিশেষ আয়োজন ও কর্মসূচি। 

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি ছাড়া আর কোনও বিশেষ কর্মসূচি নেই। বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মহিউদ্দিন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভবনে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা ওড়ানো হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ভবন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন অফিসে কোনও ধরনের পতাকা ওড়ানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন। 

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খারাপ বার্তা বহন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকে এসে দেখলাম এরকম বিশেষ একটি দিবসের কোনও স্মারক নেই। এখানের কর্তৃপক্ষ যেসব বিষয়ের সঙ্গে স্বার্থ আছে, উন্নয়নের কাজ, ভবন নির্মাণ এগুলোর ব্যাপারে যতটা আগ্রহী, অন্যান্য বিশেষ কাজ; একাডেমিক, কৃষ্টি-কালচারের ব্যাপারে উদাসীন।’ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বড় পরিসরে ছবি প্রদর্শনী, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যেতো বলে মনে করেন রায়হান রাইন।

এদিকে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে বুদ্ধিজীবী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনও আয়োজন না থাকায় কর্তৃপক্ষের ‘অকৃতজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাবিবুল রনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লাল-সবুজ আলোতে ছেয়ে ফেলেছে পুরো ক্যাম্পাস, কিন্তু বিজয় এলো যাদের ত্যাগের বিনিময়ে, তাদের ভুলে যাওয়া অকৃতজ্ঞতা, বেমানান ও দৃষ্টিকটু। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তরুণদের সামনে তুলে ধরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের কর্তব্য।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নিবন্ধক ও দুই উপ-উপাচার্যকে কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরও তারা ফোন ধরেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতারের কাছে বুদ্ধিজীবী দিবসে কেন বিশেষ আয়োজন নেই জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।