ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীর গায়ে হলুদ

কেউ পরেছেন হলুদ শাড়ি, কেউবা হলুদ পাঞ্জাবি। মেয়েদের অনেকের মাথায় বেলি ও গোলাপ শোভা পাচ্ছে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এমন চিত্র দেখা যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। 

প্রথম দেখাতে মনে হবে, সবাই ফাগুন হাওয়ায় ঘুরতে বের হয়েছেন। কিন্তু কিছু দূর যেতেই দেখা গেলো, কয়েকজনের জটলা। ছোটো একটি মঞ্চ। সেখানে নববধূর সাজে বসে আছেন এক ছাত্রী। তাকে ঘিরে বসে আছেন সহপাঠীরা। জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেলো, আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) রিয়ার গায়ে হলুদ। 

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিন রিয়া। হলুদকে কেন্দ্র করে ভালোবাসায় একীভূত হতে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে বেছে নিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

সহপাঠীরা জানান, কিছুদিন পরই রিয়ার বিয়ে। সংসার শুরু করলে হয়তো আগের মতো নিয়মিত সময় দিতে পারবে না বন্ধুদের। সবাই হয়তো বিয়েতে উপস্থিত হতে পারবে না। তাই পরিকল্পনা করে বন্ধুত্বের ভালোবাসায় উদযাপন করছেন দিনটি।

কিছুদিন পরই রিয়ার বিয়ে

ক্যাম্পাসে ‌গায়ে হলুদ হলেও ‌আয়োজনের কমতি ছিল না। কেউ এনেছেন পায়েস, কেউ এনেছেন হরেক রকমের মিষ্টি, আবার কেউ এনেছেন নানা রকমের পিঠা ও ফলমূল।

রিয়ার বান্ধবী শাপলা খাতুন বলেন, ‘রিয়া আমাদের খুব কাছের বান্ধবী। আজকের এই ভালোবাসার দিনটি স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন।’

রিয়া বলেন, ‘আমি সত্যিই আবেগ আপ্লুত। বন্ধুরা এমন আয়োজন করবে ভাবতে পারিনি।’

এদিকে ভালোবাসা দিবসের নামে ঢাকা পড়েছে সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গণআন্দোলনের সূচনাকারী ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’। 

বৈষম্যের শিক্ষানীতি বাতিল, গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে রক্ত ঝরানো এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে মনে রাখেননি অনেকেই। এমনটিই দাবি করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। 

দিবসটির স্মরণে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বর এলাকায় ভ্যানচালক, দোকানকার ও শ্রমজীবীদের মাঝে ফুল বিতরণ করেছেন তারা। এ সময় বাংলা বিভাগের জি কে সাদিক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আজিজুল হক পিয়াস, সুমনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুল বিতরণ করেন।