টিকাকেন্দ্রে জাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ

 

 

টিকাকেন্দ্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১০ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে এ অবরোধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, করোনার টিকা নিতে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মাজেদুর রহমান ও একই হলের একই ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন। টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময় শেষ হয় যায়। তবে সময় শেষ হলেও টিকাকেন্দ্রে আরও ৩-৪ জন ব্যক্তির টিকাগ্রহণ বাকি ছিল। এ সময় অন্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা টিকা দেওয়ার অনুরোধ করলে কেন্দ্রে অবস্থানরত রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা জাবি শিক্ষার্থী শুনে ‘রূঢ়’ আচরণ করেন। এক পর্যায়ে বাগবিতণ্ডার পর তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সাভার মডেল থানায় মামলা করতে গেলে তাদেরকে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে পাল্টা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

অবরোধের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ঘটনার উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদী হয়ে মামলা করার দাবি জানালে প্রক্টর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও সাভার মডেল থানার ওসির বরাত দিয়ে জানান, মামলা রেকর্ড হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আশ্বাস দেওয়ার পরে প্রক্টরের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

সাভার মডেল থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা খান শাহরিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এখনও মামলা রেকর্ড হয়নি। 

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সায়েম হুদা বলেন, ২৩ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছি, সেখানে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। ইতোমধ্যে পুরো রেড ক্রিসেন্ট টিমকে প্রত্যাহার করেছি। তারা সরকারি কেউ না। তাই এর বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থী দুজনের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।