জাবি শিক্ষককে মারধর: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষককে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক আতিকুর রহমান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথমে ভাটারা থানায় ও পরে সিএমএম আদালতে পৃথক দুই মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভাটারা থানায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে প্রথম মামলা করা হয়। পরে শনিবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে (সিএমএম) নর্থ সাউথের পাঁচ শিক্ষার্থী ও প্রক্টরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন লিমা আক্তার, মো. শায়েখ আফসার ফাহিম, দীপঙ্কর দাশ, মোহাইমিন আল মঈদ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজীব ইসলাম মিথিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু নোমান এম আতাহার আলী।

ভুক্তভোগী শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, মারধরের পর আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি ও প্রক্টর অফিসে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি থানা থেকে বাদ দেওয়ায় আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছি। লিমা আক্তার আমার কাছে পরীক্ষার প্রশ্ন চেয়েছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি লিমা আক্তার পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে দিকনির্দশনার জন্য শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে চান। শিক্ষার্থীর অনুরোধে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কফিশপে যাওয়ার পর শিক্ষক আতিকুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। মারধরের একপর্যায়ে তারা শিক্ষকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে ও মানিব্যাগে থাকা ১২ হাজার টাকা, তিনটি ডেবিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যায়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মারধরের পর প্রক্টর তার কক্ষের সামনে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্যাডে মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে লিখিত নেন। এছাড়া মামলার প্রথম আসামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে দিতে বলেন ও পরে তা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারধরের ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর মারধরের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেছেন পরিসংখ্যার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে অংশ নেন দুই শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থী। এ সময় তারা দাবি করেন, ভিত্তিহীন অভিযোগে শিক্ষক আতিকুরকে মারধর করে ফাঁসানো হয়েছে। এছাড়া মারধরে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অচল করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।