ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অস্ত্রসহ আটক ছাত্রলীগ কর্মী রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন থেকে আটকের পর রেজওয়ানকে পুলিশে সোপর্দ করে প্রক্টরিয়াল বডি। তিনি আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রলীগ নেতা শাহাজালাল সোহাগের অনুসারী বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এতে রেজওয়ান সিদ্দিকী জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা সংবাদ পরিবেশন করলে তিনি ও তার সহযোগীরা মঙ্গলবার বিকাল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন। একপর্যায়ে রাম দা হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে উপস্থিত হন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তার অপর তিন সহযোগী পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল সোহাগ বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে দেখেছি। তবে সে অপরাধী হলে প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।’
রেজিস্ট্রার দফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার আলীবর্দী খানকে সদস্য সচিব ও সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামানকে কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ইবি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ওই শিক্ষার্থীকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। মামলা হলে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।