চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই নিরাপদ। আমরা শতভাগ নিশ্চিত করছি, ছাত্রছাত্রী উভয়ের জন্যই নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার জন্য। ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দানে আমরা সচেষ্ট থাকবো। সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে টহল বাড়বে। প্রক্টরিয়াল বডিও সতর্ক থাকবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে অধিকতর কড়াকড়ি আরোপে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে, সেগুলো মেনে চলা হবে। আর যুগোপযোগী ও বিচক্ষণ নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিনেট কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই, বর্তমান প্রশাসন ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে প্রবেশের সময়সীমার খবর ছড়িয়েছিল। অথচ চবি প্রশাসন এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বা অফিসিয়াল নির্দেশ দেয়নি। আর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যৌন নিপীড়ন সেল সক্রিয় করার জন্য ‘‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’’ ইতোমধ্যে পুনর্গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া ‘‘অভিযোগ কমিটি’’ও পুনর্গঠন করা হয়েছে।’
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের কাছে বিবেচনাধীন অনিষ্পন্ন তিনটি অভিযোগ গত ২১ ও ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সভার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তার পর চবি প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সব হলের প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার, ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টরিয়াল বডিকে নিয়ে জরুরি সভায় মিলিত হয়। এ বিষয়ে প্রশাসন দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার শর্ত সাপেক্ষে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করেছে। আমরা যেকোনও যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিল যে, চার কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী এবং তার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে। চবি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে তদন্ত কমিটি গঠনের এক কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। এ ছাড়া বহিরাগত অন্য প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’