কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীর কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সোয়া ২টার দিকে তদন্ত কমিটি গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে তালা খুলে দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান বিদ্যুৎ বলেন, ‘অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। কিন্তু প্রশাসন বিষয়টির তোয়াক্কা করেনি। তাই বাধ্য হয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছি। আমরা এতদিন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সময় দিয়েছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন করে স্যারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরকে স্যারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে একজন কর্মচারীকে হুমকির অভিযোগ এনে গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। এ সময় সাবেক ওই রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত শিবিরের পৃষ্ঠপোষক, জামায়াত শিবির ও বিএনপির নিয়োগদাতা, সোলার ক্রয় দুর্নীতির মূলহোতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতিবাজ বলা হয়। এর প্রতিবাদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ২৯ আগস্ট ও ২৪ আগস্ট মানববন্ধন করেন।
ওই দিন কর্মচারীদের বিচার দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষার্থীদেরকে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেওয়ার আগ পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ার পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এ ব্যাপারে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল চন্দ মজুমদার বলেন, ‘অধ্যাপক আবু তাহের কোনও কর্মচারীকে হুমকি দিয়েছেন কিনা আমি জানি না। যদি হুমকি দিয়ে থাকেন তাহলে এটা উচিত হয়নি।’
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আহসান উল্ল্যাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানাবে। কেউ কাউকে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রত্যেকের মান-মর্যাদার ব্যাপার রয়েছে। কাউকে হুমকি দিয়ে আইন ভঙ্গ করার কোনও মানে হয় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’