বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর ক্যাম্পাসগুলোতে মহড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগ। সমাবেশের আগের দিনও সরব অবস্থান নিয়েছে সরকার দলীয় এই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে ছাত্রলীগ বাধা দিবে না। তবে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিভিন্ন হল ছাত্রলীগসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিন, ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকা, শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পলাশী চত্বর এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তারা মহড়া দেন। সকাল ১১টার কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থানে থাকলেও রাতে আবারও মোটরসাইকেল শোডাউন করে ছাত্রলীগ।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) আবারও অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রত্যেকটি স্পটে বিভিন্ন অবস্থান বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগ। এরমধ্যে শাহবাগ চত্বরে অবস্থান নেয় ঢাবির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পলাশী গোল চত্বরের পাশে অবস্থান নেয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগ। শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান নেয় জসীম উদ্দিন হল ছাত্রলীগ, দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেন ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ, ফজলুল হক হল ছাত্রলীগ, অমর একুশে হল ছাত্রলীগ, নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ছাত্রলীগ। নীলক্ষেত মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে অবস্থান নেয় এফ রহমান হল ছাত্রলীগ।
এসময় কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দেয়। তারা বলছেন, যেকোনও ধরনের অপশক্তিকে রুখতে ছাত্রলীগ সদা প্রস্তুত। ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাস ও নাশকতার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ। জনগণকে ভয় দেখিয়ে যারা হত্যার রাজনীতি কায়েম করতে চায়, তাদের এই বাংলার মাটি থেকে মূলোৎপাটন করতে হবে।’
ঢাকা কলেজ
গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে ফিরে কলেজ ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নেন তারা। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে মূল ফটকে অবস্থান নেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগও। জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, ‘পুরান ঢাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় রাজপথে থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সমাবেশের নামে কেউ যেনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটানো, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা বা শান্তি নষ্টের পাইতারা করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকবে আমাদের।'
কবি নজরুল কলেজ
রড ও স্ট্যাম্প হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও। সকাল থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাদের মিছিল ও অবস্থান করতে দেখা যায় তাদের।
এর আগে গতকাল সকালে ক্যাম্পাসসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও বিভিন্ন পয়েন্টে স্ট্যাম্প হাতে মহড়া দেয় কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ। এ সময় কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা ছিল। একই সাথে অবস্থান নিয়েছে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও।
কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এম ওয়াসিম রানা বলেন, ‘বিএনপি যেন সমাবেশের নামে কোন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমরা কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ সবসময় প্রস্তুত। পুরান ঢাকায় কেউ যদি কোনোধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই তাহলে আমরা তার সমুচিত জবাব দিবো। তবে বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে তাদের আমরা কোন ধরনের বাধা দেব না। কিন্তু তারা ইট মারলে আমরা পাটকেল মারবো।
কোনও ‘ঝামেলা হবে না’ প্রত্যাশা করে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘তবে বিএনপি যদি সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে, স্কুল কলেজে হামলা চালানো কিংবা বাস-মোটরসাইকেল জ্বালানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমরা তা অবশ্যই প্রতিহত করবো।’