সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়েছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনে অভিযুক্ত সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। একইসঙ্গে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ ও স্থগিত হওয়া ফল প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্তরা পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে তাকসহ অভিযুক্ত পাঁচ জনকে বহিষ্কার করে সংগঠনটি।
বুধবার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসানের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দিয়েছেন র্যাগিংয়ের নামে রাতভর ছাত্রী নির্যাতনে অভিযুক্ত ওই ছাত্রী।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ৪ এপ্রিল শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি বর্তমানে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। অনলাইন ক্লাস চলমান। আপনার দফতর থেকে আমাকে দুই দফায় যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনও অপরাধ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট কোনও ধারা উল্লেখ করা হয়নি। আমি দৃঢ় চিত্তে বলতে পারি, আমি উক্ত র্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনোভাবেই অংশ নেইনি।’
আবেদনে তিনি সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ক্লাস ও পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ করেন।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন বলেন, ‘ফল স্থগিতের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভালো জানে। আমরা রেজাল্ট সাবমিট করার সময় কর্তৃপক্ষকে চিঠিতে দিয়েছিলাম যে, বিশ্ববিদ্যালয় তাকে (অন্তরা) সাময়িক বহিষ্কার করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, ‘আবেদনটি পেয়ে অ্যাকাডেমিক শাখায় পাঠিয়েছি। এটি আইন প্রশাসকের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। তার মতামত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যাবতীয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে (অন্তরা) অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। কখন পরীক্ষা হয়েছে সেটা মুখ্য বিষয় নয়।’
উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ও মোয়াবিয়া, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মীম ও ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ এবং হাইকোর্ট কর্তৃক পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয় ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। পরে এ ঘটনায় প্রতিটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের হল এবং শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়াও গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।