জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য বরাবর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ছয় দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
সোমবার (১২ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আজ কোথায়, বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস দেখতে চাই, রক্ষকই ভক্ষক’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখতে পাওয়া যায়।
মানববন্ধনে ৫১তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের শেখ লোকমান গালিবের সঞ্চালনায় অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় ৫১তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বিশ্বমানের শিক্ষার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা এখানে এসেছি। অথচ আসার কয়েকমাস না পেরুতেই বহিরাগত দ্বারা এখানকার ছাত্রী হেনস্তার শিকার হলো। অভিযুক্তের যথাযথ বিচার চাই।’
৫১তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের সাদ বলেন, ‘আমাদের বান্ধবীকে হেনস্থাকারীর বিচার চাই। সিসিটিভিযুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।’
৫০তম ব্যাচের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বেদত্রয়ী গোস্বামী পৃথা বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি মানুষের ইচ্ছার ওপর আমাদের নিরাপত্তা নির্ভর করছে। এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই। বিচার না হলে এ ধরনের অপকর্মকারীদের জন্য এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তারা এ ধরনের অপকর্ম করার আরও সাহস পাবে।’
৫১তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা শ্রেয়া বলেন, ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়কে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। সিসিটিভির ব্যবস্থা করতে হবে। কালকের ঘটনার পর থেকে এই ক্যাম্পাসে আমরা নিরাপদ কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর ছয় দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের দাবিগুলো হলো– ঘটনা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের যথাযথ তদারকি, ঘটনার হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জানানো, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্যাম্পাসে মূল সড়কগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত করা, অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়কগুলোতে রাত্রিকালীন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত যানবাহন নিশ্চিত করে ক্যাম্পাসে যাতায়াত নিরাপদ করা।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ বিচারের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। অভিযুক্তর যথাযথ বিচারের চেষ্টা করবো। এছাড়া ক্যাম্পাসের রাস্তায় নিয়মিত টহল আরও বাড়ানো হবে।’