আগামী চার বছরের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ। বুধবার (১২ জুলাই) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব মোছা. রোখছানা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৩(১) ধারা অনুসারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, উপ-উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। এসময় তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ভাতাদি পাবেন, পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনও সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
এর আগে ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. নূরুল আলম। গত বছরের ১৪ আগস্ট এই পদের মেয়াদ শেষ হয়। তবে অধ্যাপক নূরুল আলম গত বছরের ২ মার্চ থেকে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করায় কার্যত সেদিন থেকেই পদটি শূন্য ছিল।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ হতে ১৯৮৮ সালে স্নাতক ও ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে প্রভাষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে কাজের মাধ্যমে কখনও হয়েছেন আলোচিত আবার কখনও সমালোচিত।
অধ্যাপক ফিরোজ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন শেষে ২০০৫ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। বন্যপ্রাণী বাস্তুশাস্ত্র, ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ নিয়ে ১৯৯০ সাল থেকে কাজ করে আসছেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া একাধারে বিভাগীয় সভাপতি, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজের বিরুদ্ধে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠনে পক্ষপাতদুষ্টতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এ সময়ে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক মফিজুল কবির টানা তিনবার ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বলে জানা যায়। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মেধা ও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়নে জালিয়াতির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রশাসন ওই বিভাগে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি স্থগিত করেন। এ ছাড়া একই সময়ে একই শিক্ষাবর্ষে তিনবার ২য়, ৩য় ও ৪র্থ স্নাতক (সম্মান) পর্বে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ নানা অভিযোগের বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছেন।