সাংবাদিককে মারধর: অবশেষে ছাত্রলীগের ৪ কর্মী ‘সাময়িক বহিষ্কার’

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় অবশেষে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ৪ ছাত্রলীগ কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা কর্মীরা হলেন, শেখ সুমন, তানজিদ হোসেন বাবু, রাতুল হোসেন ও তামিম মোল্লা। বুধবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে কেন ‘স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হবে না, তার কারণও দর্শাতে বলা হয়েছে। উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব উল্লেখিত ব্যক্তিদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের দফতর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে। ঢাকা ওয়েবের প্রতিবেদক ও কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক শীতাংশু ভৌমিক অংকুর ছবি তুলতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ফোন কেড়ে নেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তাকে মারধর শুরু করে। এসময় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস এর প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য পার্থ সাহা এগিয়ে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এরপর কলেজ মসজিদের সামনে শীতাংশুকে দ্বিতীয় দফায় আবার মারধর করে ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫ কর্মী।

তবে ‘সাময়িক বহিষ্কার’-এর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে কবি নজরুল কলেজ সাংবাদিক সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতিক হাসান শুভ বলেন, ‘সাংবাদিক মারধরের মতো এমন একটি অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডে সাময়িক বহিষ্কার একেবারেই লঘু শাস্তি। এদের সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা উচিত ছিল। তাছাড়া অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। স্বজনপ্রীতি করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত।’

মারধরের ঘটনায় অন্যতম দুই অভিযুক্ত কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মেহেদী হাসান পলাশ ও কলেজ ছাত্রলীগের ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম তাজের বিরুদ্ধে কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবিষয়ে মারধরের শিকার শিতাংশু ভৌমিক অংকুর বলেন, ‘প্রথমত বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ। দেরিতে হলেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো যাদের নেতৃত্বে আমাকে মারধর করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

তিনি এ ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলারও অভিযোগ তোলেন। বলেন, ‘ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে, অথচ কলেজ প্রশাসন মারধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আমি যে হাসপাতালের বিছানায় পড়েছিলাম, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে ন্যুনতম যোগাযোগও করেনি। আমার পক্ষ থেকে সাংবাদিক সমিতির বড় ভাইয়েরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আরও এক সপ্তাহ আগে। ঘটনার এতোদিন পার হওয়ার পরেও অধ্যক্ষ বা কলেজ প্রশাসনের কেউ আমার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।