জাবিতে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের অবস্থান

চার দফা দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেট সভা চলাকালীন সময়ে সভাকক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো– নৈতিক স্খলনে অভিযুক্ত শিক্ষক জনির অপসারণ, সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতির ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করা।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায়ের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের অপকর্মের বিরুদ্ধে একটি স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠনের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর কোনও ফলাফল আমরা দেখতে পাইনি। উল্টো উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে তার প্রভাবের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে। অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীকে দিয়ে জোরপূর্বক দায়মুক্তি লেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। অপকর্ম প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক কোনও ক্ষমতাবলে নিজ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তা বোধগম্য নয়। আমরা তার দ্রুত অপসারণ চাই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) সদস্য সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই যত্রতত্র গাছ কাটা হচ্ছে। আমরা মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া কোনও উন্নয়ন কাজ চাই না।’

জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সদস্য ওমর ফারুক বান্না বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হামলার শিকার হন। এই হামলার দ্রুত বিচার হবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন নাই। হলগুলোতে সাংবাদিকরা নিযার্তনে শিকার হচ্ছেন, অথচ তার কোনও বিচার নাই।’