গ্রেফতার আতঙ্কে জাবি শিক্ষার্থীরা, হয়রানি না করতে কর্তৃপক্ষের আহ্বান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার (২৯ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জায়গায় ফিরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের প্রায় ৩০টি গাড়ি প্রবেশ করে। এতে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

তবে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হলে তা প্রক্টর অফিসকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসংযোগ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নানা ধরনের সংবাদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ প্রক্রিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে কোনও প্রকার হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানাচ্ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে।

আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে তা প্রক্টর অফিসকে অবহিত করার জন্য বলা হলো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছে।

এদিকে সোমবার (২৯ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জায়গায় ফিরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশের এলাকায় পুলিশের প্রায় ৩০টি গাড়ি প্রবেশ করে। এতে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকায় আটকা পড়েন। অনেককে চাকরির প্রস্তুতি ও টিউশনসহ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসব এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে। পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গেরুয়া, ইসলামনগর ও আমবাগান এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা। তবে আজ পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রবিবার (২৮ জুলাই) ভোর পৌনে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের আমবাগান এলাকার মনসুরনগর হাউজিং এস্টেটের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদাপোশাকে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আরিফ সোহেলকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার দেখায় এবং তাকে আদালতে হাজির করলে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গেরুয়া ও ইসলামনগর এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে আটক জাবি শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাকিদের মামলায় আটক দেখানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রেফতার-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।