যে কারণে জাকসু নির্বাচন বর্জন করলেন বিএনপিপন্থি ৩ শিক্ষক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে ছাত্রদল। এরপর ভোট বর্জন করে নির্বাচনি দায়িত্ব ছাড়লেন তিন শিক্ষক। এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষক গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট নজরুল ইসলাম। বাকি দুই শিক্ষক হলেন- শামীমা সুলতানা ও নাহরিন খান।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা গতকাল রাতে জানতে পেরেছি, বিশেষ একটি দলের ব্যক্তিকে ভোট গণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পারি, তিনি দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা গোয়েন্দার মাধ্যমে তথ্য নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করলে তারা এই মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা থেকে সরে আসে। কারণ এতে বিতর্ক হতে পারে।

তিনি বলেন, এতে প্রতীয়মান হয়েছে, যে প্রক্রিয়া মাধ্যমে ভোটগ্রহণ এবং ব্যালটের দায়িত্ব যাদেরকে দেওয়া হয়েছে এটা প্রশ্নবিদ্ধ। জাকসুর ব্যালট পেপার কোথায় থেকে ছাপানো হয়েছে সাংবাদিকরা তার কাছে এটা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, এটা তার প্রেস থেকে ছাপানো হয়নি। অথচ সাব কন্ডাক্টরের মাধ্যমে থার্ড পার্টির কাউকে দিয়ে এটা ছাপানো হয়েছে। 

বিএনপিপন্থি এই শিক্ষকের দাবি, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে এত বরাদ্দ প্রয়োজনে আরও পাঁচ লাখ টাকা বেশি খরচ হতো। ১৫/২০ জন শিক্ষক রাগে দুঃখে বাসায় চলে গিয়েছেন। আমরা তিন জন প্রেসের সামনে কথা বলেছি এবং নির্বাচন বর্জন করেছি। এই নির্বাচনের আর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে কি না সেটি জাতি বিবেচনা করবে।

এর আগে জাকসুর ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল প্যানেলের জিএস তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, তাজউদ্দীন হলে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। তালিকায় ভোটারদের ছবি নেই, ২১ নং হলে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। জাহানারা ইমাম হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে।

এই নির্বাচন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতার সরবরাহ করা ওএমআর মেশিন আমরা চাইনি। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ব্যালটেই ভোট হচ্ছে। ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যালট শিবিরকে দেওয়া হয়েছে কি না?

বৈশাখী বলেন, মেয়েদের হলে একই মেয়ে বারবার ভোট দিতে গেছেন। শিবিরপন্থি সাংবাদিকরা মিস বিহ্যাভ করেছেন ছাত্রদলের প্রার্থীদের সঙ্গে, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। এটি কারচুপি ও প্রহসনের নির্বাচন। তাই নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হচ্ছি। নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না।

ছাত্রদলের নির্বাচন বর্জনের প্রতিক্রিয়ায় শিবির প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভোট বর্জন গণতন্ত্রের জন্য সুন্দর নয়। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিবির ভোটের মাঠে থাকবে। শিক্ষার্থীরা যে রায় দেবে সেটি মেনে নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভোটিং মেশিন নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই মেশিন নাকি  জামায়াতের প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু এই তথ্য সত্য নয়। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে।