ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকান স্থাপন এবং এগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুই শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান গড়ে উঠেছে, যার বেশিরভাগই অবৈধ। এই দোকানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল এবং ডাকসুর একাংশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টিএসসি এলাকায় ৪৭টি, মেট্রো স্টেশনের নিচে ১১টি, রমনা কালী মন্দিরের গেটে ৩৫টি, কার্জন হলের সামনে ২৩টি, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আইএমএল) গেটে ৫টি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও ডাকসু সংলগ্ন এলাকায় ৪২টি, ভিসি চত্বরে ১৯টি, মল চত্বর সংলগ্ন রাস্তায় ১১টি এবং হলপাড়া এলাকায় ৩২টি দোকান রয়েছে।
ঢাবির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামসুদ্দোহা সৌরভ জানান, এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরিচালিত দোকান মাত্র সাতটি। উল্লেখ্য, সৌরভের হলপাড়া এলাকায় ‘গণ চা তন্ত্র’ নামে একটি দোকান রয়েছে।
একই শিক্ষাবর্ষের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সবুজ অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তার দাবি, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়ার বিনিময়ে কিছু লোক দোকান বসানোর সুযোগ করে দেয়। সবুজেরও হলপাড়া এলাকায় একটি দোকান রয়েছে।
ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এস্টেট অফিসের অনুমতি ছাড়া বসানো সব দোকানই অবৈধ। লাইব্রেরির ফুডকোর্ট ও নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টের ১০-১২টি দোকান ছাড়া বাকি সবগুলোর বিরুদ্ধে আজ থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।”
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার বিনিময়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব দোকান বসানোর সুযোগ করে দেয়। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় যে, কয়েকজন ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে চাঁদাবাজি করছেন। এই অভিযোগ যাচাইয়ে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ।
রবিবার দুপুরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী এবং সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ তোলেন। তারা প্রজেক্টরে কিছু ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দেখান। অন্যদিকে, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হাসান সাদ পাল্টা দাবি করেন, তারা চাঁদাবাজি নয়, বরং প্রক্টরিয়াল বডির উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের নিজেদের দোকান উচ্ছেদ করা হলেও টিএসসির পাশের নির্দিষ্ট কিছু দোকান কেন উচ্ছেদ করা হচ্ছে না, তা দেখতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে একটি দোকান ভাঙচুরের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করে ডাকসু এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের কর্মীরা।