স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এলএমআইসিজ (আইক্যাথ-এলএমআইসি ২০২৬)’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ. এম. সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক বি এইচ ব্রাউন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন। সম্মেলনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী। এছাড়া বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং রিলেভ্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সীমিত সম্পদ নিয়েও যুগোপযোগী ও কার্যকর স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা রাখেন। দেশীয় উদ্ভাবন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা দেবে।
তিনি স্বাস্থ্যসেবায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও উপযোগী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ নির্ণয় প্রযুক্তিতে দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্যখাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা, নীতি-সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।