ফান্ড চায় জকসু, বাজেট দিতে বললো জবি প্রশাসন 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের কাছ থেকে জকসু ফান্ডের কোনও অর্থ পায়নি শিক্ষার্থী সংসদ। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বলছে, নীতিমালা অনুযায়ী কর্মসূচির বাজেট, রেজুলেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই ফান্ডের অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। 

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে ১০০ টাকা করে আদায় করা হলেও ফান্ডের আয়-ব্যয়ের কোনও প্রকাশ্য হিসাবও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জকসু ফান্ড গঠন করা হয়। 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। সেই হিসেবে প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১৭ লাখ টাকা এবং দুই দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ফান্ডে জমা হওয়ার কথা। তবে এই পর্যন্ত কত টাকা জমা হয়েছে, কী কী খাতে ব্যয় হয়েছে কিংবা বর্তমানে তহবিলে কত অর্থ রয়েছে এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা জকসুর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতি সেমিস্টারে জকসু ফান্ডের নামে আদায় করা অর্থ দ্রুত শিক্ষার্থী সংসদের কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ফান্ডের অর্থ কোথায় রয়েছে, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে— এসব বিষয়ে নিয়মিত ও প্রকাশ্য হিসাব প্রকাশ করে তহবিল ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব বলেন, “আমরা দুই সেমিস্টারে জকসুর জন্য টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন শুনছি সেই অর্থ এখনো জকসুর কোনও কাজে ব্যবহার হয়নি এবং প্রশাসনের কাছেই রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যদি এই অর্থ ব্যবহৃতই না হয়, তাহলে তা আদায়ের উদ্দেশ্য কী? প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই অর্থ জকসুর কাছে হস্তান্তর করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা।” 

জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “শুরু থেকেই জকসু ফান্ডের বিষয়ে আমরা সক্রিয় ছিলাম এবং একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জকসু ফান্ডের অর্থ আমাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে, যাতে বিভিন্ন সম্পাদক ও দায়িত্বশীলরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই অর্থ এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।” 

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে প্রশাসন ফান্ডের অর্থ জকসুর হিসাবে স্থানান্তরের আশ্বাস দিলেও এখন অন্যান্য ক্লাব ও সংগঠনের মতো ফাইলভিত্তিক অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলছে, যা জকসুর গঠনতন্ত্রে নেই। নিজেদের সুবিধামতো এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফান্ডের অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। এতে জকসুর কার্যক্রম অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতায় পড়বে। আমরা দ্রুত ফান্ডের অর্থ হস্তান্তর এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।” 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদসমূহের গঠন ও পরিচালনা বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বিধিমালার ১৮(৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোষাধ্যক্ষ সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সম্পাদককে তাঁহাদের অনুকূলে বাজেটে বরাদ্দ অনুসারে অগ্রিম অর্থ প্রদান করিবেন। গৃহীত অগ্রিম সমন্বয়ের লক্ষ্যে সকল পদধারী প্রাপ্ত অর্থের রশিদ ও ভাউচারসহ আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সম্পাদকের নিকট দাখিল করিবেন, যিনি তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবেন। সাধারণ সম্পাদক সকল ভাউচারসহ সমন্বিত হিসাব কোষাধ্যক্ষ বরাবর জমা প্রদান করিবেন। 

এই বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জকসুর ফান্ডের অর্থ নগদভাবে বিতরণ করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী সংসদকে তাদের কর্মসূচি, রেজুলেশন, বিভাগভিত্তিক বাজেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী যে খাতে যত অর্থ প্রয়োজন, সেই বাজেটের ভিত্তিতেই অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই ফান্ড পরিচালনা করা হবে।” 

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা সরমিন বলেন, “জকসুর অর্থ আটকে রাখা হয়নি। আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী কর্মসূচির রেজুলেশন, বাজেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই ফান্ডের অর্থ ছাড় দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও অডিটের স্বার্থে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অর্থ ব্যয় করতে হবে।” 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলেই সংরক্ষিত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হলে জকসুর প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।”