জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে ট্রেজারার পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শিক্ষক সমিতির নেতারা। এ সময় শিক্ষক নেতাদের পাশাপাশি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বর্তমানে জবিতে ৭৩২ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে ২৪৫ জন অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা ও সমস্যার সঙ্গে পরিচিত। তাই ট্রেজারার পদে জবির যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জবির শিক্ষকরা যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে হবে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষক সমিতি শুধু শিক্ষকদের সংগঠন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন।
ছাত্র প্রতিনিধি ফেরদৌস শেখ বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ ছিল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বৈষম্যমূলক নিয়োগ না হয়, সে দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘টিম জগন্নাথ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেয়।
প্রসঙ্গত, সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ট্রেজারার নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।