জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী একরামুল হক সাজিদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার মা। সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনও জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি। আমি শহীদের মা হিসেবে এখানে এসেছি।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতেই সাজিদের মা বলেন, ‘আজ আমি একজন শহীদের মা হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু তার স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি এখনো তার গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমাই। মনে হয়, আমার ছেলে যেন এখনো আমার কাছেই আছে।’
তার আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ যেন কখনও বৈষম্য, অন্যায় ও স্বৈরাচারের পথে না ফিরে যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।