জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা স্থগিত রেখেছে। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একটি ছাত্রসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপন্থি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে সবার জন্য সমান নীতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্ত সব ছাত্রসংগঠনের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। না হলে কোনও একটি সংগঠনকে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হলে একই সুযোগ অন্য সংগঠনগুলোকেও দিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, এই ঘটনা আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখবো এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং কোনও ধরনের সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে।
তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুন্দর ঐতিহ্য রয়েছে। সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে সংস্কৃতি এখানে গড়ে উঠেছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে আমি ছাত্রদলের সহযোগিতা কামনা করি। ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের আমরা সবাই চিনি। জুলাই আন্দোলনে তারা সামনের সারিতে ছিলেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিভিন্ন দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন বলে জানা যায়।