জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জয় সাহাকে বহিষ্কারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি ও কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে জয় সাহা সহপাঠীদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন বলেও দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জয় সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।
তাদের প্রথম দাবিতে জয় সাহাকে ছাত্রদল এবং ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হিন্দু ফোরাম’ থেকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা না রাখার দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ তাঁকে সহযোগিতা বা প্রশ্রয় দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জয় সাহাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারেরও দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবিতে জয় সাহাকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁকে ১৮তম আবর্তন থেকেও বহিষ্কারের দাবি করেছেন সহপাঠীরা।
তৃতীয় দাবিতে ভবিষ্যতে জয় সাহার বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি কিংবা ছাত্রী হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও ঘোষণা দেন, তাঁদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৮তম আবর্তনের কোনও শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
এর আগে, ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দাবি করে, শিবির শিক্ষার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে মব করার চেষ্টা করেছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাঁদের প্রতিহত করেন বলে দাবি সংগঠনটির।
এদিকে, ৪ আগস্টের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।