জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে গত ৪ আগস্ট জকসু, শিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর ‘ছাত্রদলের হামলা’র ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নয় জবি শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি। অপরদিকে, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে লিখিত কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছে ছাত্রদল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আহ্বানে এ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের পাশাপাশি সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনার একপর্যায়ে উভয়পক্ষকে সমঝোতায় রাজি হয়ে কোলাকুলি করার অনুরোধ করেন ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। তবে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এতে অস্বীকৃতি জানান। তারা ৪ আগস্টের হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ৪ আগস্টের হামলার বিচার না হলে কোনও ধরনের সমঝোতায় আমরা রাজি নই। হামলার বিচার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। আজকের বৈঠকে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর এবং একটি কার্যকর কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের পরই সমঝোতার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনও শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হয়, সে জন্য জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও চার্টার দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সেগুলো পর্যালোচনা করে সব সংগঠনের সম্মতিতে নীতিমালা আকারে প্রণয়ন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
তিনি বলেন, সব ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে একটি লিখিত কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করা হবে এবং সেটির ভিত্তিতে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো সংগঠন অন্য সংগঠনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে না বা উসকানি দেবে না। সবাই নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে এবং ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলবে। ভবিষ্যতে সংঘাত নয়, পারস্পরিক সমন্বয় ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি মো. শাহিন মিয়া বলেন, সমঝোতার আগে বিচার হতে হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, সে যে সংগঠনেরই হোক না কেন এবং ভুক্তভোগী যে-ই হোক না কেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আগে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারের আগে কোনও ধরনের সমঝোতায় আমরা বসব না। বিচার নিশ্চিত হওয়ার পরই সমঝোতার বিষয়টি আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের ডাকা হলেও এটি যে সমঝোতা বৈঠক, সে বিষয়ে আগে থেকে আমাদের জানানো হয়নি। সেখানে গিয়ে আমরা বিষয়টি জানতে পারি এবং আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরি। আমরা বৈঠক থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিলাম। তবে প্রশাসনের অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমাদের একটাই কথা—বিচারের আগে কোনও সমঝোতা নয়।