রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বহিরাগত ও রিকশাচালকদের অশালীন আচরণ, ইভটিজিং এবং বিভিন্ন স্থানে হয়রানির অভিযোগ করছেন কয়েকজন ছাত্রী। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘বান্ধবীদের সঙ্গে রিকশা ঠিক করার সময় এক চালক তার সামনে অশালীনভাবে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই চালক তাকে গালিগালাজ করে চলে যান। আশপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রী জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাজলা গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় মডেল স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় মডেল স্কুলের তৃতীয় তলার সিঁড়ির গ্রিল থেকে এক শিক্ষার্থী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ও সুন্দরী!’ এরপর সেখানে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে চলে যায়।
ওই ছাত্রী বলেন, ‘ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে নিছক দুষ্টুমি বা মজা মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত একজন নারীকে উদ্দেশ করে এ ধরনের মন্তব্য করার সাহস তারা কোথা থেকে পায়, সেটিই প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের ভুল বা দুষ্টুমি করা স্বাভাবিক। তবে কোনও আচরণ শোভন আর কোনটি অশোভন, কীভাবে একজন নারীকে সম্মান করতে হয় এবং অপরিচিত কাউকে উদ্দেশ করে কী ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়—এসব শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেওয়া প্রয়োজন।
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শুরুতেই এ ধরনের আচরণ সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে তা আরও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে রূপ নিতে পারে। এ জন্য মডেল স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও অন্যকে সম্মান করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে টুকিটাকি চত্বরে ক্লাসের ফাঁকে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। বাবু ভাইয়ের দোকানে আমরা কয়েকজন মেয়ে খাবার খাচ্ছিলাম। আমাদের পাশে কয়েকজন ছেলে, যতটুকু বোঝা গেছে তারা বহিরাগত, এসে তাস খেলছিল এবং সিগারেট খাচ্ছিল। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের দিকে সিগারেটের ধোঁয়া দিচ্ছিল। পাশাপাশি অশ্লীল ভাষাও ব্যবহার করছিল। পরে আমরা সেখান থেকে উঠে যাই।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খাবার খেতে যান, সেখানে এ ধরনের আচরণের মুখোমুখি হতে হবে—কল্পনাও করা যায় না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রী বলেন, ‘আমি যখন ক্যাম্পাসে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিলাম, তখন চিৎকার করছিলাম। কিন্তু একজন মানুষও এগিয়ে আসেনি। অথচ আশপাশে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই ছিল। আমি সেই দিন কখনও ভুলতে পারবো না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নারী শিক্ষার্থীর পোস্টের বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়েছি এবং সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে ফুটেজে বিষয়টি কিছুটা অস্পষ্ট ছিল। তা সত্ত্বেও, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ প্রশাসন ও সিকিউরিটি টিম নিয়মিত টহল ও তদারকি জোরদার রেখেছে।’