নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের চত্বর সংলগ্ন সড়কে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের একদল শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে এগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দোকানগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা জানান, দোকানগুলো নজরুল হল চালুর আগ থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে রয়েছে। নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বক দোকানগুলো দখলের চেষ্টা করছেন। তা নিয়ে আজ বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অপরদিকে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের দাবি দোকানগুলো তাদের হল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এজন্য সেগুলো নিজেদের বলে দাবি করছেন তারা।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের শান্ত করার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

তবে প্রশাসনের মধ্যস্থতার পরও তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, ‘বর্তমানে দুই হলের শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরবর্তীতে দুই হলের প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে দোকানগুলো নিয়ে যৌক্তিক সমাধান করা হবে।’