কুমিল্লায় কিশোর ইশহায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সঙ্গে ঢাকার খিলগাঁওয়ে নবম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানায় ছাত্র জোট।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসি চত্বর, মলচত্বর, শ্যাডো হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম বলেন, “একদিকে মানুষ ও শিশু হত্যা চলছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এই মৃত্যুর আওয়াজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছায় না। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের উদাসীনমূলক কথাবার্তা বলে।”
তিনি আরও বলেন, “এমন একটি রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করছি, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনও গ্যারান্টি নেই। এখানে বারবার যারা হত্যা, গুম ও সন্ত্রাস করছে, তারা আইনের আওতায় আসছে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনকে সংকটের দিকে ধাবিত করছে।”
তৈয়ব ইসলাম আরও বলেন, “রাষ্ট্র স্বয়ং ক্রাইম করছে। সংসদে মানুষের জীবন বা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও কথা হয় না; বরং সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের হাতে থাকা নিপীড়নের এই কাঠামোটি আমাদের ভাঙতে হবে। এই রাষ্ট্রকে না ভেঙে আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি শুভাশীষ চাকমা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বললে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রশাসন বলে যে, সবার বেডরুম পাহারা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বলতে চাই, যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অপহরণ ও লুটপাট চালাচ্ছে, তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেই তারা এসব করতে পারছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের এই চরম অবক্ষয়ের পেছনে রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সরাসরি দায়ী।”