গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশাল মিছিল

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং মিরপুরে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর, কলাভবনের শ্যাডো, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা ঘুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জোটের নেতারা।

মিছিল থেকে ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, বিএনপি জবাব দে’, ‘শ্রমিকদের ওপর হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব দে’, ‘লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’ এবং ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই কর’—এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নাঈম উদ্দীন বলেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির সঙ্গে অন্য পেশার মানুষের মজুরি বৃদ্ধির কোনো বিরোধ নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন। অথচ শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামলে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

এলাকায় শ্রমিকদের মারধর এবং পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, মিরপুর, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন নিন্দনীয়। শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পেছনে বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে। আর এখন বিএনপি সরকার শ্রমিকদের আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন খুঁজছে। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজা বন্ধ, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়া এবং পুলিশের হামলা, হয়রানি, গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তিনি।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম বলেন, যাঁদের শ্রমের ওপর বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকেরাই কারখানার ভেতরে ও বাইরে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরির দাবিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তাঁরা রাস্তায় নামলেও সেখানে পুলিশের হামলার মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, পোশাকশিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলেও শ্রমিকেরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না। বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন। তাই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু চলমান শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি গঠিত মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো প্রতিনিধি নেই। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতাসীন বিএনপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রয়েছেন। তিনি বলেন, বোর্ডে যারা রয়েছেন, তাঁরা বিজিএমইএ এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ইমু বলেন, সাভারের প্রথম শহীদ ছিলেন একজন শ্রমিক। শ্রমিকেরা একসময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের উচিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো।

সমাপনী বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফাহিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে আওয়ামী লীগের ইন্ধন বা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে দমনের এ ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন কেবল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নয়; এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ভাত, রুটি, রুজি ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।