বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) এর ঢাবি কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের জন্য আমাদের অবশ্যই বিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরি করলেই হবে। তবে এর পাশাপাশি সবার আগে ভালো শিক্ষকও তৈরি করতে হবে। শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত প্রাণ হয়ে যাতে শিক্ষকরা কাজ করতে পারেন এমনভাবে তাদেরকে তৈরি করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আজকে যদি বলে দেই পিএসসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী), জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা বন্ধ, তাহলে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী আগামীকাল থেকে স্কুলে আসবে না। তারা ঝরে পড়বে। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ধরে রাখতেই পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষকের মর্যাদা যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি তাহলে এখাতে বাজেট বাড়িয়েও কোনও লাভ নেই। কেননা শিক্ষকের মর্যাদাটাই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ মর্যাদা যদি তিনি না পান তাহলে তার কাছে থেকে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়াটাও জটিল হয়ে যাবে। তাছাড়া তরুণরাও আর এই শিক্ষকতা পেশায় আসার আগ্রহ দেখাবে না।
নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য আরও বলেন, কী করে একজন প্রধান শিক্ষককে এভাবে নির্যাতন করা হয়? তাকে নির্যাতন করার কারণ যেটি সেটি কতটা বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে এসেছে তা আমি জানি না। তবে একটি ঘটনা ঘটলে তার সবদিক গণমাধ্যমে আসা উচিত।
এ সময় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার আশা প্রকাশ করে সবার আগে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাকে সবার জন্য নিশ্চিত করা এখন আমাদের দায়িত্ব হয়ে গিয়েছে।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ। এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষায় বাজেটের বরাদ্দ আপেক্ষিকভাবে জিডিপির (মোট জাতীয় আয়) দুই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চার শতাংশ করতে হবে। সেই সঙ্গে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশে নিয়ে যাওয়াটা জরুরি।
বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীর প্রতি ব্যয় তুলে ধরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশে বছরে শিক্ষার্থী প্রতি ৩০০ ডলার ব্যয় হলেও আমাদের দেশে মাত্র ১০০ ডলার ব্যয় হয়। জিডিপিতে শিক্ষা ব্যয়ের অনুপাত বিচারে বিশ্বের ১৬১ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫ তম স্থানে, যা খুবই লজ্জার এবং উদ্বেগের।
বাকবিশিসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আ ম ফারুকে সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব শিক্ষক সমিতির ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, বাকবিশিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার প্রমুখ।
সেমিনারে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেট: গতি প্রবণতা, বাস্তবাত ও করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ।
আরও পড়ুন: এমপি ও প্রশাসনের নির্দেশেই শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছে
এসআর/আরএআর/এজে