এদিকে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন সেলিম ওসমান। ওই অনুদান ভাগাভাগি কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের সঙ্গে কমিটির বিবাদ ঘটে। এরপরই স্কুলের এক শিক্ষার্থীতে মারধর ও ইসলাম কটূক্তির অভিযোগ আনা হয় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্বার্থান্বেষী কেউ কেউ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বসতেও তৎপর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কমিটির লোকজন শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে বিচার বসায়। ওই বৈঠকে তিনি অভিযোগ রেজ্যুলেশন আকারে হাজির করার কথা বললেই আশেপাশে প্রণোদিত মানুষ তাকে মারধর করে।
সূত্রগুলো জানায়, এই ঘটনা শুরুর প্রায় ৬ ঘণ্টা পর সেলিম ওসমান ঘটনাস্থলে যান খবর পেয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে ওই এলাকায় যেতে হয় বলেও মনে করেন স্বজনরা। তবে স্বজনরা মনে করছেন, ঘটনার পেছনে সেলিম ওসমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ভূমিকা ছিল। এ বিষয়টিই কাল সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করতে পারেন তিনি।
সেলিম ওসমানের ভাই শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ এক সহচর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঘটনাস্থলে ওই দিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ছিল। সেলিম ওসমান না গেলে সেখানে শ্যামল কান্তিকে মেরে ফেলার শঙ্কাও ছিল।
আরও পড়ুন: এমপি ও প্রশাসনের নির্দেশেই শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছে
এই সহচরের দাবি, মানুষ তো বলছে, শ্যামল আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন।এখানে তো ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট কাজ করেছে। এই সুযোগটা হয়তো সেলিম ওসমানের প্রতিপক্ষরা ব্যবহার করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেলিম ওসমান কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আমি আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। সকাল সাড়ে এগারোটায় প্রেসক্লাবে। আমি সেখানেই কথা বলব।
সেলিম ওসমানের মতো তার দল জাতীয় পার্টিও এ নিয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানান দলের কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
সেলিম ওসমানের মেয়ের শশুরবাড়ির কয়েকজনের সূত্রে জানা যায়, আইনতভাবে একজন এমপি একজন শিক্ষককে কান ধরাতে পারেন না। কিন্তু ১৩ মে শুক্রবারের পরিস্থিতি ছিল কন্ট্রোলের বাইরে। উনি তো পরিস্থিতির শিকার। এ কারণেই হয়তো তাকে নিয়ে এত কথা হচ্ছে।
সূত্রমতে, আগামীকালের সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি নিয়েও কথা বলবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমের খবর সম্প্রচার নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন তিনি।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনায় কেন ব্যবস্থা নয়: হাইকোর্ট
সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শ্যামল কান্তির চিঠিও সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেবেন সেলিম ওসমান। ১৩ মে ঘটনার পরদিন শ্যামল কান্তি ভক্ত একটি ধন্যবাদ পত্র দিয়েছেন সেলিমকে। ওই চিঠি ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করেছেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ এক নেতার দাবি।
পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, সেলিম ওসমানের এই সমালোচনার সময়ে নীরব রয়েছেন বড় ভাই শামীম ওসমান। ছোটভাইয়ের অনুরোধেই বড় ভাই চুপ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে চুপ থাকলেও অনুসারী, কর্মী, সমর্থকসহ সবাই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে। সূত্রের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান আল্লাহকে কটূক্তির বিষয়টিকেই হাইলাইট করবেন এবং এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রচারণা চালাবেন।
বুধবার বাংলা ট্রিবিউনের স্থানীয় প্রতিনিধিকে শ্যামল কান্তি বলেছেন, ‘যে হাতে শিক্ষার্থীদের তৈরি করেছি, সেই শিক্ষার্থীদের অনেকেই সেদিন আমার গায়ে হাত তুলেছে। আমার আর বাঁচার কোনও অধিকার নেই।
/এসটিএস/এফএস/টিএন/