'রোয়ানু' এখন উপকূলে, ৭ নম্বর সতর্কতা সংকেত

রোয়ানু এখন বাংলাদেশের উপকূলেউত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে আসছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন এখন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় (২০.৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.০ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শনিবার দুপুর বা বিকাল নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রোয়ানুর প্রভাবে শুক্রবার থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে।   

আবহাওয়া অধিদফদরের পরিচালকের (চলতি দায়িত্ব)  পক্ষে আবহাওয়াবিদ মো. রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, আবহাওয়া অধিদফতরের ডপলার রাডার পর্যবেক্ষণ থেকে এবং আবহাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় (২১.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। সকাল ৯ টা পর্যন্ত এটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শনিবার (২১ মে) দুপুর বা বিকাল নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এসব এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।  

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ সহ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন- 

‘রোয়ানু’র ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে বরগুনার উপকূলবাসী

বাগেরহাটে আশ্রয় কেন্দ্রে সাত হাজার অধিবাসী

/এফএস/