প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে নানা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভাজিত প্রশাসন পেয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দলের মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি শরিক দলগুলোর নেতারাও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ অবশ্যই কষ্টের মধ্যে আছে। তবে আমাদের সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জ্বালানি খাতকে লুটপাটের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত পুনর্গঠনে সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি জানান, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়াও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি ছিল জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে। এই সাফল্যের দাবিদার দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এটি কোন একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন নয়।
তিনি বলেন, জনগণের সম্পৃক্ততার কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তাই দেশ গঠনের জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণ এই কর্মসূচির পক্ষে রায় দিয়েছে। এ কারণে ৩১ দফা এখন আর শুধু বিএনপির নয়, এটি জনগণের ৩১ দফা।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম, ৩১ দফার লক্ষ্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠন।









