গাড়িতে লাগানো লিখিত স্টিকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সড়কে সার্জেন্টদের সঙ্গে গাড়িচালকদের তর্ক-বিতর্ক হওয়ার পর এই চিঠি দেওয়া হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ট্রাফিক বিভাগের প্রধান মো.শফিকুল ইসলাম ট্রাফিক পুলিশদের লিখিত এই নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠিতে সার্জেন্টদের সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ মে সন্ত্রাস ও অপরাধী দমনের কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের লোগো ছাড়া শুধু প্রেস, সাংবাদিক, পুলিশ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশা লেখা সংবলিত স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, ‘এ রকম আলগা স্টিকার লাগানো হয়তো বেশিরভাগ সঠিক, কিন্তু কেউ কেউ এটির অপব্যবহারও করবেন। হয়তো কোনও সন্ত্রাসী এই সুযোগে এ ধরনের স্টিকার লাগিয়ে অপরাধ করবেন। এটা তো আপনাদের পেশার জন্য গৌরবের হতে পারেনা। তাই কারও ব্যক্তিগত গাড়িতে এ ধরনের স্টিকার বা পরিচয় ব্যবহার না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।’
কমিশনার বলেন, ‘এটি তর্ক-বিতর্কের বিষয় না। আমাদের উদ্দেশ্য সৎ। সন্ত্রাস দমন, মাদক ও জঙ্গি দমনের জন্য, যানজট সহনীয় করার জন্য সব পেশার মানুষকে অনুরোধ করছি, আমাদের সহযোগিতা করুন।’
এরপরই রাজধানীতে স্টিকারযুক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ট্রাফিক পুলিশ।এই অভিযানে ট্রাফিক পুলিশকে স্টিকার তুলে ফেলতে দেখা গেছে। কখনও কখনও সার্জেন্টের সঙ্গে গাড়ির চালক ও মালিকের বাক-বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। যা পুলিশের উচুঁমহল পর্যন্ত গড়িয়েছে।কিছু ঘটনার মধ্যস্থতা করতে হয়েছে উঁচুপদের পুলিশ কর্মকর্তাদের।সার্জেন্টদের ব্যবহারে অনেকেই অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। এরপরই নাগরিকদের প্রতি ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টরদের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের নজরে পড়েছে। ফলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগের প্রধান। চিঠিটি স্টিকার তুলে ফেলার অভিযানের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে তা মাঠ পর্যায়ের পুলিশের কাছে পৌঁছে চলতি মাসের ১২ মে।
আদেশে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন ইস্যুতে নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। এতে ট্রাফিক বিভাগের কার্য পরিবেশ বিনষ্ট এবং পুলিশের কাজের পেশাদারিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়,যা কোনও অবস্থাতেই কাম্য নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে নাগরিকদের সঙ্গে যথাযথ ও শোভনীয় আচরণ প্রদর্শন আমাদের বিধিবদ্ধ ও নৈতিক দায়িত্ব।’
অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, ‘দেশের কোনও নাগরিকই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাই সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাংলাদেশ পুলিশ ও ডিএমপির গর্বিত সদস্য হিসেবে জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দৃঢ় হতে হবে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার পরিহার করতে হবে। এই বিভাগের সকল টিআই এবং সার্জেন্টদের স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ট্রাফিকের যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, অতিরিক্ত ডিসি ও এসিদের মাঠ পর্যায়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করবেন।’
এদিকে আলগা স্টিকার লাগানো গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ এখনও অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট বলেন, ‘আমরা বর্তমানে স্টিকার লাগানো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলার চেয়ে তুলে ফেলতে বেশি জোর দিচ্ছি। তাছাড়া এখন স্টিকার লাগানো গাড়ি কমে আসছে। অনেককে ধরলে নিজেরাই তুলে ফেলছেন। আবার কেউ কেউ একটু ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে ভালো উদ্যোগ বলে এটার প্রশংসা করছেন।’
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবু ইউছুফ বলেন, ‘মানুষ সহযোগিতা করছে। এখন স্টিকারযুক্ত গাড়ি কম দেখা যাচ্ছে। মানুষের ভেতরে সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
/এআরআর/ এপিএইচ/