বিএনপি দমনে মামলাকেই ‘অস্ত্র’ ভাবছে আ. লীগ

Send
পাভেল হায়দার চৌধুরী
প্রকাশিত : ১৬:৪৬, মে ২২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪২, মে ২৩, ২০১৬

আওয়ামী লীগ- বিএনপিনির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নতুন আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামতে পারে। ক্ষমতাসীনরা মনে করছে, এ বছরের শেষ দিকে অথবা ২০১৭ সালের শুরুর দিকে বিএনপি এই আন্দোলন শুরু করতে পারে। তবে বিএনপি নতুন করে আন্দোলনে নামলে তা দমন করতে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলাকেই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করবে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে বিএনপি আবার মাঠে নামবে এমন তথ্য রয়েছে তাদের কাছে। তাই বিএনপির দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের  করে তাদের দমনের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা। শুধু তাই নয়,বিএনপি যাতে আন্দোলন করতে মাঠে নামতে না পারে সে জন্যে দলটির কর্মকাণ্ডের ওপর শাসকদলের কড়া নজরদারিও রয়েছে। যদি বিএনপি আন্দোলনে নেমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা মামলাগুলো সক্রিয় করে তোলা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, বিএনপির ওপর আরেক দফা হামলা-মামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সূত্র জানায়,ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। দমনের অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার মামলাগুলো সক্রিয় ও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মামলায় ব্যস্ত রেখে খালেদাকে এ বছর চাপে রাখা হবে। সরকারের অন্যতম কৌশল খালেদাকে মামলায় ব্যস্ত রাখা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আইনজীবী মহল সরকারের বিভিন্ন মহলকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছে যে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা-তারেকের সাজা হবে। এ মামলার সকল ‘গ্রাউন্ড’ই সাজা হওয়ার মতো।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়া ও তারেককে মামলার চাপে রাখা গেলে বিএনপির নড়াচড়া করার সুযোগ থাকবে না। কারণ,বিএনপির নেতারাও বুঝে গেছে মামলায় মা-ছেলে দু’জনই দোষী সাব্যস্ত হবেন। তাই এ বছর খালেদা-তারেকের মামলা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে আগামী ২ জুন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না থাকলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার চাপ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তারেক জিয়াকেও দেশে ফিরিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া চলছে সরকারের ভেতরে।

সূত্র মতে, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতাদের মামলাগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেসব মামলার ভিত্তি কতটা শক্তিশালী তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র জানায়,বিএনপির আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করবে সরকার। যখনই বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামবে তখনই ক্ষমতাসীনরা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে সামনে এনে গ্রেফতারের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করার কৌশল গ্রহণ করে রেখেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে বিএনপি এখনও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। আসলে তারা রাজনীতির চেয়ে ষড়যন্ত্রেই বেশি অভ্যস্ত। তাই তাদের মোকাবেলার পথও সরকার ঠিক করে রাখবে এটাই স্বাভাবিক।

সূত্রগুলো বলছে, এরই অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার চাপে ফেলা হবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দরকার পড়লে গ্রেফতারের মত বড় সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারে সরকার। তবে খালেদার ক্ষেত্রে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির জ্বালাও-পোড়াও ও দলীয় কার্যালয়ে বসে থাকার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে হয়তো সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির ষড়যন্ত্রের রাজনীতির আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে। বিএনপি তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি অব্যাহত রাখলে তাদের দমন করতে, যা করা দরকার সরকার সবই করবে। জ্বালাও-পোড়াও করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বেশ কিছুদিন ছাড় পাওয়ার কারণে বিএনপির নেতারা রাজপথে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্ত এই সুযোগকে তারা অপব্যবহার করার একটি চক্রান্ত শুরু করেছে, তাই তাদের প্রতি আবার কঠোর হওয়া ছাড়া সরকারের উপায় নেই।     

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি সরকারকে উৎখাতের জন্যে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে। তারা সুস্থধারায় রাজনীতি না করলে বা কোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে, যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে। তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আর কোনও আন্দোলন জনগণ মানবে না। নির্বাচন চাইলে বিএনপিকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনের দাবিতে কোনও আন্দোলন গ্রহণযোগ্য হবে না সরকারের কাছে উল্লেখ করেন হানিফ।

আরও পড়ুন: 

উস্কানি ছড়ানো পেজগুলো পর্যবেক্ষণের বাইরে: নির্ঝর মজুমদার

মোল্লা মনসুর নিহতের খবর নিশ্চিত করল তালেবান

/এমএসএম /এপিএইচ/    

লাইভ

টপ