কমার্স কলেজ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এক মাসেও প্রস্তুত হয়নি

কমার্স কলেজের সেই দুই শিক্ষার্থীশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা কমার্স কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গঠনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনও প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।
এর আগে, গত ১২ মে ঢাকা কমার্স কলেজের একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দিয়ে তাদেরকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। যদিও পরে ৯ শিক্ষার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুনরায় ভর্তি করে নেয়।
জানা যায়, কলেজটির দুই শিক্ষার্থী কলেজের সামনে রাস্তায় একে অপরকে প্রেম নিবেদন করে। এই দৃশ্যটি তাদেরই ৯ বন্ধু বৃত্তাকার হয়ে হাত ধরাধারি করে উদযাপন করে এবং এই নিবেদনের মুহূর্তটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় যখন ওই ১১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং ভর্তি বাতিল করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নিজেও এ ব্যাপারে মন্তব্য করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া অন্যায় কিছু নয়। প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা যাবে এমনটি বাংলাদেশের আইনে নেই।

পরে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এ ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু করে মাউশি। কিন্তু এক মাস পার হলেও এই তদন্তের কোনও অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।

মাউশি’র কলেজ-২ শাখার উপ-পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি গঠনের এক সপ্তাহ পর তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা কলেজের অধ্যক্ষকে ডেকেছিলাম। তার কাছে কিছু তথ্য প্রমাণ চেয়েছি। তিনি তথ্যগুলো দিলেই আমরা প্রতিবেদন তৈরি করবো।

এদিকে প্রায় একমাস পর সোমবার তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে একই কথা বলেন। তিনি বলেন, কাজ চলছে। অধ্যক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছি। তিনি তথ্যগুলো দিলে খুব শিগগিরই একবার কলেজে তদন্ত করতে যাবো। তাছাড়া অন্যান্য অনেক কাজ নিয়ে চাপের মধ্যে আছে। আশা করছি দ্রুতই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

/আরএআর / এএইচ/

আরও পড়ুন-