নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ৭৯ নম্বর সড়কে জড়ো হন শোকার্তরা। ব্যারিকেডের পাশে তারা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এসময় তাদের কারও কারও হাতে মোমবাতিও ছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান-২ এ ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় অস্ত্রধারীরা। তারা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিনসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। তাদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও তিনজন বাংলাদেশি। ছয় জঙ্গিও নিহত হয়।
বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয়।বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে নিহতদের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।
যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন, তিনি এসকায়েফ-এর সিইও সিমীন হোসেনের ছেলে এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম লতিফুর রহমানের নাতি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি হচ্ছেন ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান ক্রিয়েটিভস (আইএসি)-এর শিক্ষার্থী ইশরাত আকন্দ। সহপাঠীরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহত অপর আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অবিন্তা কবীর। তিনি এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদের কন্যা। পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অবিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে থাকতেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান লিটন বলেন, ‘এই ঘটনার মাধ্যমে তারা (জঙ্গিরা) তাদের সক্ষমতা, কৌশল ও গভীরতার পরিচয় দিয়ে গেছে। শুধু মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দোষ দিলে হবে না। নাগরিককে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তা হলে এটা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।’
আরও পড়ুন-
প্রতিবেশীদের বর্ণনায় ভয়াল ২৪ ঘণ্টা
গুলশানের রেস্টুরেন্টে কমান্ডো অভিযানের ৫টি ভিডিও
৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি
/এআরআর/এফএস/