জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার শিবপুরের একটি গ্রাম থেকে বুধবার গভীর রাতে রুমা আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটি)। বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে আটক করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশের এই সংস্থাটির কোনও কর্মকর্তা।
নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাকির হোসেন মজুমদার জানান, ভোরে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজমের একটি ইউনিট রুমা আক্তারকে ধরে নিয়ে গেছে বলে আমরা শুনেছি। যে গ্রাম থেকে তাকে ধরে নিয়ে গেছে সেই গ্রামে আমাদের লোক গিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে তবে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কোনও কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নরসিংদীর শিবপুরের সাধারচর ইউনিয়নের চরখোপি এলাকা থেকে রুমা আক্তারকে আটক করা হয়। তিনি সেখানকার মুক্তিযোদ্ধা দুধু শেখের মেয়ে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আমাদের নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, বুধবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় গিয়ে একটি নম্বরে ফোন দেয়। ফোনটি রিসিভ করেন রুমার বোনের ছেলে স্থানীয় চরসিন্ধুর বাজারের চা বিক্রেতা সোহেল। এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফোনে সোহেলকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত গোয়েন্দারা জিজ্ঞেস করেন সে রুমা নামে কাউকে চিনে কিনা। উত্তরে সে রুমা সম্পর্কে তার খালা হয় বলে জানালে গোয়েন্দারা তাকে নিয়ে গিয়ে রুমার বাড়ি পৌঁছে। সেখান থেকে রুমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।
স্থানীয়রা আরও জানান, রুমা ৮/৯ বছর ধরে স্বামী পরিত্যক্তা। ছয় মাস আগে তিনি গৃহকর্মীর ভিসায় দুবাই যাওয়ার পর কাজ করতে গেলেও ভাল না লাগার কারণে তিন মাস পর দেশে ফিরে আসেন। পরে ঢাকার বাড্ডায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন তিনি।
স্থানীয় একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, গুলশান হামলার রাতে ৭৯ নম্বর সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেসময় গোলাগুলির শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর বাড়ি ফেরেন। এরপর ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি ফেরেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম হোসেন বলেন, আটকের ঘটনাটি শুনেছি তবে বিস্তারিত কিছুই জানি না।
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে সন্দেহভাজন একাধিক জঙ্গিকে আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আটকের বিষয়ে বরাবরের মতোই মুখ বন্ধ করে রেখেছেন কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর সন্দেহভাজন বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আরও অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই কাউকে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গি নির্মূল ও জঙ্গি হামলা মামলার তদন্তের স্বার্থে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
/এনএল/টিএন/
আরও পড়ুন: