জীবন বাঁচাতে সাত প্রাকাশ হাতে নিয়েছিলেন কোরআন

গুলশান হামলায় বেঁচে যাওয়াদের একজন ভারতীয় নাগরিক সাত প্রাকাশ। জীবন বাঁচাতে কিছু কৌশল অবলম্বনসহ জঙ্গিদের অনেক নির্দেশনাও বাধ্য হয়ে পালন করেন তিনি। খেয়েছিলেন সেহরি। হাতে নিয়েছিলেন কোরআন। গত ২৬ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তি পাওয়ার পরে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন সাত প্রকাশ

সাত প্রাকাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, হামলাকারীরা তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছিল। শেষ রাতে তারা সেহরি খেতে দেয়। তাদের সন্দেহ এড়াতে আমি কয়েক কামড় খাই। সেহরির পর তারা আমাদের টেবিলে মাথা রাখতে বলে। আমার  আবছাভাবে মনে পড়ে, কেউ একজন নির্দেশনা দিচ্ছিল। দুই ব্যক্তি (হামলাকারী) থাকবে ওপরের সিঁড়িতে, দুজন থাকবে সিঁড়ির নিচের দিকে। একজন কিছু একটা করবে যা আমার মনে পড়ছে না। পরে তারা দুই ব্যক্তিকে তাদের (হামলাকারীদের দিকে) কাছে আসতে বলে।

সাত প্রাকাশ আরও বলেন, আমি ওই দুই ব্যক্তিকে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখি। কিছু সময় পর তারা ফিরে আসেন এবং আমার সামনে টেবিলে মাথা নিচু করে বসেন। এ সময় আমি একমাত্র হামলাকারীকে চলাফেরা করতে দেখি। আমি দেখি, টাক মাথার ব্যক্তি (হাসনাত) সামনের দরজা খুলছেন। আমি অন্য সবার সঙ্গে উঠে দাঁড়াই এবং তারা আমাদের ছড়িয়ে পড়তে বলে।

এ সময় হঠাৎ দেখি, এক হামলাকারী তাহমিদকে পবিত্র কোরআন শরিফ দিচ্ছিল। কিন্তু তাহমিদ তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমি কোরআন হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তারা আমাদের ফোন (টেবিলে ওপর রাখা) ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। পরে আমরা রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে হাঁটা শুরু করি।

/জেইউ/টিএন/

এ সংক্রান্ত আরও খবর:

সাত প্রকাশের জবানিতে গুলশান হামলার ভয়াবহ চিত্র

হত্যার পর মোবাইলে খবর পড়ে হামলাকারীরা

‘ভাইয়েরা তাদের নিয়ে গর্বিত’

তাহমিদ-হাসনাতকে নিয়ে যা যা বললেন সাত প্রকাশ

ইংরেজি জবানবন্দির একটি বাক্য বাংলায়

মিডিয়া বা পুলিশের কাউকে চেনেন?

‘ইয়েস, আমি বাঙালি’

মোবাইলগুলো কেড়ে নেয় হামলাকারীরা

ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন নারীরা

‘আমি নিশ্চল হয়ে গেলাম’

তাহমিদের হাতে কোরআন শরিফ দেয় এক হামলাকারী