মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শাহজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কার্গো ভেসেল ও যাত্রী পরিবহন নৌযান শ্রমিকরাই কেবল ন্যূনতম বেতন কাঠামোর দাবিতে এ কর্মবিরতি পালন করছে। এ ইস্যুতে আমার কিছুই নেই। কারণ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি আগেই সমাধান হয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘শ্রমিকরা বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে যেটি শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিষয়। গত ২৬ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, নৌযান শ্রমিক ও মালিকদের বৈঠক হয়। যেখানে তিনটি শ্রেণিতে নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির শ্রমিকদের জন্য সর্বসাকুল্যে ১০ হাজার, ‘খ’ শ্রেণির জন্য সাড়ে ৯ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির জন্য আট হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা হয়।’
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তেলবাহী জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু কার্গো ও যাত্রী পরিবহন নৌযান শ্রমিকরা এটা মানতে চান না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নৌযান শ্রমিকদের বেতন কাঠামো ঠিক করার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিয়া আব্দুল্লাহ মামুনের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়। তারা কয়েকটি বৈঠক করে এই বেতন নির্ধারণ করেন। কিন্তু কার্গো ভেসেল ওনার অ্যাসোসিয়েশন এবং ওয়াটার ওয়েজ প্যাসেঞ্জার পরিবহন অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। যেটি এখনও বিচারাধীন। ফলে সরকারের তরফ থেকে আর আগানো সম্ভব হয়নি।’
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ‘ক’ শ্রেণির নৌযান শ্রমিকদের বেতন ঠিক রেখে আলোচনার মাধ্যমে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির শ্রমিকদের বেতন ঠিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেটা না করে শুধু মজুরি বাড়ানোর জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন।’’
তিনি বলেন, ‘এই কর্মবিরতি সম্পর্কিত কোনও নোটিশ আমি কিংবা শ্রম প্রতিমন্ত্রী কেউই পাননি। এমনকি রবিবার তেলবাহী জাহাজের শ্রমিকদের বেতন ঠিক করতে বৈঠক হলেও সেখানে শ্রমিকরা এ সম্পর্কে কিছুই বলেনি।’
শাহজাহান খান বলেন, ‘নৌযান শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে যে কর্মবিরতি পালন করছে সেটা শ্রম মন্ত্রণালয়ের বিষয়। শ্রমপ্রতিমন্ত্রী ঢাকার বাইরে আছেন। আগামীকাল ঢাকায় ফিরলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। না হলেও অচলাবাস্থা নিরসতে শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদফতর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌযান ঢাকায় আসছে।’
উল্লেখ্য, মজুরি বাড়ানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি করছে দেশের নৌযান শ্রমিকরা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে এই কর্মবিরতি শুরু করে নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। গত ২০ এপ্রিল মজুরি বৃদ্ধিসহ মোট ১৫ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ডেকেছিল তারা। চার মাসের মাথায় ফের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে নৌযান শ্রমিকরা।
/এসআই/এসএনএইচ/টিএন/
আরও পড়ুন: ব্যাংক খাতে এখন খেলাপি ঋণ ১০.৬ শতাংশ