র্যাবের সরবরাহকৃত প্রথম নিখোঁজ তালিকায় থাকা প্রকৌশলী রাহাত বিন আব্দুল্লাহ দুই মাস পর ফিরে এসেছে।গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎই সে তার অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় কে বা কারা খিলক্ষেতে নামিয়ে দিয়ে গেছে।
এদিকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গি কানেকশন থেকে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ তার মোবাইলে পুরো চার্জ ছিল এবং তার বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেই স্বীকার করেছে, কিছুদিন সে জঙ্গি কানেকশনে ছিল।
রাহাতের খালা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রাহাত অফিস ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিজেই মোহাম্মদপুর থানায় গেলে থানা থেকে ‘প্রসেসের’ কথা বলে আটকে দেওয়া হয়। এখন রাহাতকে কখন কীভাবে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাহাত ফিরে আসার পরে আমরা তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তার বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে তাকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তার গ্রামের বাড়ি যশোরে। সেখান থেকে তার বাবা আব্দুল্লাহ বিন আকবর আজ বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ছেলে ফিরে এসেছে এটাই আমাদের কাছে বড় সুসংবাদ। আমরা আশঙ্কা করছিলাম, সে আদৌ বেঁচে আছে কিনা। পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমে সহায়তায় তাকে খোঁজার চেষ্টা করেছি।এখন পুলিশ সঠিক তদন্তের মধ্য দিয়ে যেটা বের হবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। সেখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের একটি নির্মাণধীন ভবনের প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন রাহাত বিন আব্দুল্লাহ। থাকতেন পাশেরই এক বাসায় সাবলেটে। গত মাসের ১৮ তারিখে নিখোঁজ হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেদিন কর্মস্থলে বসে ছিলেন রাহাত। সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কর্মস্থল থেকে চলে যান রাহাত। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যার ভবনের নির্মাণ প্রকৌশলী হয়ে কাজ করতেন রাহাত, তিনি মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এরপর সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে নিখোঁজ থাকা র্যাবের তালিকায় তার নাম দেখা যায়।
নিখোঁজ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সরেজমিন চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ই ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর নির্মাণধীন ওই বাসায় কথা বলে নানারকম তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ওই ভবনের ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১৮ জুলাই সকালে রাহাত বিল্ডিংয়ের নিচতলায় চেয়ারে বসেছিলেন। এসময় মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি ও এক তরুণ তার সঙ্গে এসে কথা বলেন। তারপর তাদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ১০ নম্বর সড়ক ধরে এগিয়ে যান রাহাত।তারা এমনভাবে কথা বলছিলেন যেন আগে থেকেই পরিচিত। ১০ নম্বর সড়ক ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি রাহাত। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।
কর্মস্থলের পাশেই যে বাসায় থাকতেন রাহাত বিন আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন আল-আমিন। আল-আমিন সেসময় বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, রাহাত নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস আগে থেকে এক সঙ্গে একই রুমে থাকতেন তারা। রাহাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। অন্যদের ধর্ম-কর্ম করার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু তিনি হঠাৎ করে একদিন নিখোঁজ হয়ে গেলেন। কেন তিনি নিখোঁজ হলেন বা কোথায় গেলেন তা অনুমান করতে পারছেন না তিনিও।
আল-আমিন জানান, রাহাত দু’টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। নিখোঁজ হওয়ার দিন তার দামি মোবাইলটি ঘরে চার্জে দেওয়া ছিল। সঙ্গে আরেকটি মোবাইল ছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই।
/টিএন/
আরও পড়ুন: ব্যাংক খাতে এখন খেলাপি ঋণ ১০.৬ শতাংশ