বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পে নিয়োজিত জাপানিদের নিরাপত্তায় সিভিল এভিয়েশন

বাংলাদেশ-জাপানবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজে নিয়োজিত জাপানি নির্মাণ সংস্থার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা দেবে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে জাপানের শীর্ষ স্থানীয় নির্মাণ সংস্থা নিপ্পন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিপ্পন ও জাইকার ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আগামীকাল বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে।
সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি বলেন, ‘জাপানিরা সিভিল এভিয়েশনের গৃহীত নিরাপত্তা পদক্ষেপের প্রতি যথেষ্ট আস্থাশীল।’ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের স্বার্থে জাপানি নাগরিকদেরকে বাংলাদেশের যেকোনও স্থানে নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরকার চাপের মুখে পড়ে।বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।গত রবিবার দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত তাদের নাগরিকদের চলাচলের ওপর জারি করা সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসার পরও বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর ও থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাপানি কোম্পানি ও জাইকার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ইস্যুটি সামনে আনা হয়। এর আগেও এ দুটো প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনে একাধিকবার বৈঠক হয়।তারই ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সিভিল এভিয়েশনের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের নিপ্পন কোম্পানির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
এভিয়েশন সূত্র জানায়, তারা জাপানি প্রতিনিধিদলকে নিশ্চিত করেছে, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল থাকবে। আর্মড পুলিশ ও আনসার ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি থাকবে। শুধু সিভিল এভিয়েশনই নয়,তারা যখন প্রকল্প কাজে নিয়োজিত থাকবেন, তখন স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সেখানে দায়িত্ব পালন করবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য ১২০ কোটি টাকায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেডকে। যুগের চাহিদা পূরণ এবং আকাশ পথে বিশ্বের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সরকার এ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে।অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিশ্বের অন্যতম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।’

সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী বলেন, ‘পদ্মার ওপারে বঙ্গবন্ধুর নামে দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থানের জায়গা-জমি, যাচাই-বাছাই করতে জাপানের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।মাদারীপুরের শিবচরের চর জানাজাত, ঢাকার দোহারের চরবিলাসপুর, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের কেয়াইন ও লতব্দি এলাকায় প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই করবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। পরে যেকোনও একটি জায়গাকে চূড়ান্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’ তবে পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাড়ের কোনও স্থানই প্রাধান্য পাবে বলেও জানান তিনি।

সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়- প্রকল্পটির কার্যাদেশে বলা হয়েছে,ঢাকার সঙ্গে উত্তম যোগাযোগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনপূর্বক স্থান নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের লক্ষ্যে মোট ৯টি স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে ঢাকা থেকে দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিবেচনা করে উপরোক্ত চারটি স্থান নির্বাচন করা হয়।

ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যতগুলো আন্তর্জাতিক বিমানের রুট রয়েছে, তার সবগুলো দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দূরত্বের বিবেচনায়ও আন্তর্জাতিক বিমানসমূহের অবতরণের জন্যও পদ্মার দক্ষিণ প্রান্ত উপযুক্ত স্থান।এখানে বিমানবন্দর স্থাপিত হলে এর পাশে এক লাখ একর খাস জমিতে একটি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ সম্ভব হবে এবং এর দক্ষিণ-পূর্ব পাশে নরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক নৌ-কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন করার সুযোগ থাকবে।মূলত এ সব সুবিধা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়েও ইতোমধ্যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে নিপ্পনকে।

এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে কমনওয়েলথ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন সজীব ওয়াজেদ জয়