আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১২ অক্টোবর) গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠোনে তিনি এসব কথা বলে।
বিএনপির ২০১৩ সালের ডিসেম্বর ও ২০১৫ সালে টানা তিন মাসের আন্দোলনে পেট্রোল বোমায় হতাহতের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা পুড়ে মারা গেছে, এ দৃশ্য তাদের ছেলে বা বাবা দেখেছে, তারা কি বিচার পাবে না? এসব কাজের কি বিচার হবে না? অবশ্যই হবে। যুদ্ধারাধীদের যেমন বিচার আমরা করেছি, এসবের বিচারও হবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে দলটির পক্ষ থেকে মিথ্যা মামলা দাবির জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনটা মিথ্যা মামলা প্রমাণ করুন। কোনও মামলা মিথ্যা কি না, সেটা প্রমাণ করতে হলে তো কোর্টে যেতে হবে। কোর্টে গেলে না বোঝা যাবে সেটা মিথ্যা কি না। কিন্তু আপনি কোনটা করবেন না, কোর্টেও যেতে চান না। কোর্ট থেকে পালান। কারণ, চোরের মন পুলিশ পুলিশ।’
খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করে এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মহিলা বলেন মিথ্যা মামলা, মিথ্যা মামলা। কিন্তু কোনটা মিথ্যা মামলা? আন্দোলনের নামে মানুষ পোড়ানোর নির্দেশ আপনি দেননি? এতিমের টাকা চুরি করেননি?
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর যখন আমার বিরুদ্ধে মামলা হলো আমি বললাম ফেইস করবো। আমি কোর্টে যাবো। কিন্তু তখন তারা বলে, কোর্টে আসার দরকার নেই। আমি বললাম, কেন আসবো না, মামলা দিয়েছেন, এখন আসতে না করেন কেন?’
অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার পরিবারের উদাহরণ নেটে দলীয় নেতা-কর্মীদের সৎ থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায় না। এই টাকা থাকে না। সন্তান মানুষ হয় না, তারা পড়াশোনা করে না, উচ্ছন্নে যায়। এক মহিলার সন্তানরা বিপুল টাকা করেছে। কিন্তু তাদের পরিণতি আপনারা দেখেছেন।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেইই দেশের উন্নতি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খাবো, কেউ খাবে না-এটা আমাদের নীতি নয়। বরং আমি খাবো না, সবাই খাবে-এটাই আমাদের নীতি। আর নীতি যদি ঠিক থাকে আর পদক্ষেপ যদি নেওয়া যায়, তাহলে দেশের উন্নতি যে করা যায়, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’
/ইএইচএস/এফএস/