কেজিপ্রতি ১০ টাকা চালের এ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেশিরভাগ অভিযোগই উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। স্বজনপ্রীতি, তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, দলীয় প্রভাব খাটানো, ঘুষ, ওজনে কম দেওয়াসহ উঠেছে শতেক অভিযোগ।
এছাড়া, হতদরিদ্রের তালিকা তৈরি থেকে চাল বিক্রির প্রতিটি পর্যায়েই দুর্নীতি ও অনিয়মের হাজারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।
উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো-
১. হতদরিদ্রের পরিবর্তে তালিকায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম দেওয়া হয়েছে।
২. ডিলারদের স্বজন ও কাছের লোকজনের নাম তালিকায় স্থান পেয়েছে।
৩. হতদরিদ্র হিসেবে যারা তালিকায় নাম ওঠাতে পেরেছেন, কোনও কোনও জায়গায় তারাও চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
৪. তালিকায় নাম ওঠানো বা চাল পাওয়ার জন্য ডিলারদের ঘুষ দিতে হচ্ছে।
৫. কালোবাজারে বেশি দামে এই কর্মসূচির চাল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
৬. এক ব্যক্তির নাম একাধিকবার এবং একই পরিবারের একাধিক লোকের নাম তালিকায় ওঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
৭. ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে।
৮. শহরের রাজনৈতিক নেতারা প্রভাব খাটিয়ে গ্রামে তাদের কাছের লোকদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
৯. নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট গুদামে চাল রাখার কথা থাকলেও ডিলাররা চাল রাখছেন যেখানে-সেখানে।
১০. ডিজিটাল পদ্ধতির পরিবর্তে কোথাও কোথাও চাল দেওয়া হচ্ছে বালতিতে মেপে।
১১. দলীয় কোন্দলের কারণে হতদরিদ্রের তালিকা পরিবর্তন করা হচ্ছে।
১২. প্রশাসনের তরফ থেকে তদারকির অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
১৩. চাল পাওয়ার পরপরই দালাল ফড়িয়ারা হতদরিদ্রদের কাছ থেকে কিছু বেশি টাকায় চাল কিনে নিচ্ছে।
১৪. নির্ধারিত সময়ের পরে এমনকি এক মাস দেরিতেও কর্মসূচি শুরুর অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দেশের সব উপজেলায় কর্মসূচিটি চলছে। এ চাল নিয়ে যাতে কোনও দুর্নীতি না হয়, এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কর্মসূচির এক মাস পার হতে না হতেই অনিয়মের হাজারও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা মূল্যে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই পাঁচ মাস কর্মসূচির আওতায় চাল পাবে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। ডিলারের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে এই চাল পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি চাল ৩৭ টাকা দরে কিনে ১০ টাকা দরে হতদরিদ্রদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতি কেজি চালের ওপর ২৭ টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে সরকার। এর ফলে সরকারকে প্রতি বছর ২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
/এফএস/ এপিএইচ/আপ-এইচকে/
পড়ুন: ১০ টাকার চাল কারা খায়?